সিলেট ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। সোমবার (২১ জুন) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দুই সিটিতেই ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবন থেকে এই দুই সিটির ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামানো হয়েছে। মাঠে রয়েছেন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা।
এদিকে, দুই সিটির ভোটে এখন পর্যন্ত অনিয়মের খবর কোনো খবর পাওয়া যায়নি নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা। রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সিসি ক্যামেরা ভোট পর্যবেক্ষণে শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
রাশেদা সুলতানা বলেন, “নির্বাচন কমিশনের মনিটরিং সেল থেকে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার কোনো তথ্য পাইনি। মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে, এ পর্যন্ত আমাদের কাছে অনিয়মের তথ্য নেই।”
ভোটার উপস্থিতি ভালো জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “উপস্থিতি বেশ ভালো। সিলেটের কোনো কোনো কেন্দ্রে কয়েক দিন ধরে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। তাই দু-একটা কেন্দ্রে একটু কম, আর সব জায়গায় ভালো। রাজশাহীতে তো খুব-ই ভালো।”
তিনি আরও বলেন, “এ পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে জটিলতা সংক্রান্ত কোনো খবরও আসেনি। শুরুতে শুধু রাজশাহীর একটা জায়গায় একটু সমস্য হয়েছিল। ওটা সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে। ওটা নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি তখন ওখানেই ছিলেন। ওটা ঠিক সময়েই শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ইভিএম নিয়ে খুব একটা তথ্য আসেনি।”
তবে ইভিএমে যদি ত্রুটি দেখা দিলে সেটা মোকাবিলা করার সক্ষমতাও আছে জানিয়ে কমিশনার রাশেদা সুলতানা বলেন, “ইভিএমে যদি কোনো ত্রুটি দেখা দেয়, তাহলে আপনারা জানেন যে আমাদের ব্যাকআপ মেশিন আছে, কারিগরি টিম আছে। যদি কোনো সমস্যা হয়, আমরা সঙ্গে সঙ্গেই সেটা দূর করার চেষ্টা করবো।”
সিলেট সিটিতে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচন হচ্ছে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৫৪ হাজার ৩৬০ এবং নারী দুই লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৭ জন। মেয়র পদে আট, সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৭৩ এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৮৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মেয়র পদে আট প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (নৌকা); জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল (লাঙ্গল); ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা); জাকের পার্টির মো. জহিরুল আলম (গোলাপ ফুল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল হানিফ কুটু (ঘোড়া); মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন (ক্রিকেট ব্যাট); মো. শাহজাহান মিয়া (বাস) ও মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা (হরিণ)।
রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী চারজন। সাধারণ ৩০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ১১২ জন এবং সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ৪৬ জন। তবে সাধারণ ওয়ার্ডের একটিতে কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজশাহী সিটিতে ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭১ হাজার ১৬৭ জন এবং নারী ১ লাখ ৮০ হাজার ৮০৯ জন, হিজড়া ৬ জন। ভোটকেন্দ্র ১৫৫টি এবং ভোটকক্ষ ১ হাজার ১৫৩টি।



