শুল্ক ফাঁকি রোধে গত বছর মদ আমদানিতে নজরদারি বাড়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে বৈধপথে মদ আমদানি হ্রাস পায়। ফলে দেশের একমাত্র লাইসেন্সধারী অ্যালকোহল উৎপাদনকারী কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড প্রথমবারের মতো মদের বিক্রি ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে ।
কোম্পানি সূত্রের বরাতে ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দা বিজনেস স্টান্ডার্ড বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোং আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১০ লাখ প্রুফ লিটার বেশি মদ বিক্রি করেছে। শুধু ডিস্টিলারি ইউনিট বা মদ উৎপাদন থেকে তাদের আয় হয়েছে ৩৬৭ কোটি টাকা, যা এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো তাদের ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ১০০ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা করেছে। যা তার আগের বছরে ছিল প্রায় ৯০ কোটি টাকা।
কেরু অ্যান্ড কোং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোসারুফ হোসেন সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, “আগের বছরের চেয়ে এবার ২৫ থেকে ৩০% বিক্রি বেড়েছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ কোম্পানির বিক্রি বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বর্ধিত চাহিদা পূরণে কোম্পানির বিদ্যমান ক্যাপাসিটির ব্যবহার বেড়েছে, তারপরও একটি বড় অংশ এখানো অব্যহৃত রয়েছে। চাহিদা যদি আরও বাড়ে, বিদ্যমান ফ্যাক্টরিতে বাড়তি চাহিদা পূরণে মদ উৎপাদন সম্ভব হবে।”
চিনিতে লোকসান
“লোকসানের মুখে” দেশের ১৫টি চিনিকলের মধ্যে ৬টি চিনিকল বন্ধ করেছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড়, শ্যামপুর (রংপুর), রংপুর ও সেতাবগঞ্জ (দিনাজপুর) চিনিকলে ২০২০–২১ অর্থবছরে আখমাড়াই বন্ধ ছিল।
একইভাবে, কেরুও চিনি ইউনিটে বড় লোকসান দেখিয়েছে। যদিও লোকসানের পরিমাণ প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। তবে সূত্র বলছে, চিনি উৎপাদনের লোকসান সমন্বয়ের পরও ২০২১-২২ অর্থবছরে কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭০ কোটি টাকা, যা বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ১৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
কেরুর যাত্রা, উৎপাদন ও বিপনন
১৮০৩ সালে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী জন ম্যাক্সওয়েল চোলাই মদের কারখানা (ডিস্টিলারি) হিসেবে ব্রিটিশ ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে কেরু অ্যান্ড কোং প্রতিষ্ঠা করেন। পর্যায়ক্রমে আসানসোল, কাটনি এবং চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কোম্পানিটির শাখা খোলা হয়।
১৯৩৮ সালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় প্রতিষ্ঠা পাওয়া “কেরু অ্যান্ড কোং”কে ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। এর পর থেকেই কোম্পানিটি কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড হিসেবে পরিচিতি পায়।
বর্তমানে কেরুর ছয়টি ইউনিট রয়েছে। চিনি, ডিস্টিলারি, ফার্মাসিউটিক্যালস, বাণিজ্যিক খামার, আকন্দবাড়িয়া খামার (পরীক্ষামূলক) এবং জৈব সার। এর মধ্যে শুধু ডিস্টিলারি ও জৈব সার ইউনিট থেকে লাভ করছে কোম্পানিটি।
কেরু অ্যান্ড কোং এর ডিস্টিলারি ইউনিট নয়টি ব্র্যান্ডের মদ তৈরি করে। যার মধ্যে রয়েছে ইয়েলো লেভেল মল্টেড হুইস্কি, গোল্ড রিবন জিন, ফাইন ব্র্যান্ডি, চেরি ব্র্যান্ডি, ইম্পেরিয়াল হুইস্কি, অরেঞ্জ কুরাসাও, জারিনা ভদকা, রোজা রাম এবং ওল্ড রাম।
বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোং-এর তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার ও পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটায় আরও দুটি বিক্রয়কেন্দ্র এবং তিনটি সংরক্ষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে কেরুর।
কেরু সূত্রের বরাতে টিবিএস জানায়, ম্যানুয়াল সিস্টেমের পরিবর্তে অটোমেশন পদ্ধতিতে মদের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কেরুর। এটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলেই উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হবে।



