সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ‘অনুসন্ধানী পাঠ' বইয়ে হুবহু অনুবাদ করা নিয়ে ওঠা অভিযোগের দায় স্বীকার করেছেন বইটির রচনা এবং সম্পাদনায় যুক্ত থাকা অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক হাসিনা খান।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন তারা।
এছাড়া বিষয়টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকেও নিশ্চিত করেছেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল।”
সংবাদমাধ্যমটিকে তিনি বলেন, “আমি আর এ নিয়ে কিছু বলব না। যথেষ্ট হয়েছে। বিবৃতিটি সত্য। সেখানেই এটি নিয়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।
এর আগে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “ওই অধ্যায়ের আলোচিত অংশটুকু লেখার দায়িত্বে আমরা দুজন না থাকলেও সম্পাদক হিসেবে এর দায় আমাদের ওপরও বর্তায়, সেটি আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি।”
২০২৩ সালে চালু হওয়া নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ করেছে সরকার। এ মাসের শুরুতে তা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ বইয়ে রচয়িতা হিসেবে নাম আছে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ড. হাসিনা খান, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খান, ড. মু শতাক ইবনে আয়ূব ও রনি বসাকের। সম্পাদক হিসেবে নাম রয়েছে অধ্যাপক জাফর ইকবালের।
লেখক হিসেবে খ্যাতিমান জাফর ইকবাল একজন পদার্থবিদ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনার পর অবসর নেন তিনি।
প্রাণরসায়ন বিজ্ঞানী ও জিনতত্ত্ববিদ হাসিনা খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কৃত হয়।
এদিকে সম্প্রতি নাদিম মাহমুদ নামে একজন কলামনিস্ট একটি সংবাদমাধ্যমে কলামে লিখেন, বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ বইয়ে বিভিন্ন অংশ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এডুকেশনাল সাইট থেকে হুবহু অনুবাদ করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে এই অনুবাদে ব্যবহার হয়েছে গুগল ট্রান্সলেট।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও হাসিনা খান/সংগৃহীতএ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে জাফর ইকবাল ও হাসিনা খানের পাঠানো ওই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়,
“হুবহু অনুবাদের অভিযোগ তুলে লেখা কলামটি তাদের নজরে এসেছে।”
“অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বইয়ের কোনো কোনো অধ্যায়ের অংশবিশেষ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এডুকেশনাল সাইট থেকে নিয়ে হুবহু অনুবাদ করে ব্যবহার করা হয়েছে। বইয়ের এই নির্দিষ্ট অংশটুকু এবং ওয়েবসাইটটির একই লেখাটুকু তুলনা করে অভিযোগটি আমাদের কাছে সত্য বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।”
বইয়ের ওই অংশটুকু রচনায় তারা যুক্ত ছিলেন না দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, “একই পাঠ্যপুস্তক রচনার সঙ্গে অনেকে জড়িত থাকেন, যাদের শ্রম ও নিষ্ঠার ফলাফল হিসেবে বইটি প্রকাশিত হয়। বিশেষত জাতীয় পাঠ্যপুস্তক রচনার ক্ষেত্রে এই সব লেখকের কাছ থেকেই একধরনের দায়িত্বশীলতা আশা করা হয়। সেখানে কোনো একজন লেখকের লেখা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা আমাদের টিমের জন্য হতাশার এবং মন খারাপের কারণ হয়।”
“ওই অধ্যায়ের আলোচিত অংশটুকু লেখার দায়িত্বে আমরা দুজন না থাকলেও সম্পাদক হিসেবে এর দায় আমাদের ওপরও বর্তায়, সেটি আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি।”
বইয়ের পরবর্তী সংস্করণে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হবে বলে আশ্বস্ত করে জাফর ইকবাল ও হাসিনা খান বলেছেন, এ বছর বইটির পরীক্ষামূলক সংস্করণ চালু হয়েছে এবং সামনের শিক্ষাবর্ষ থেকে এতে যথেষ্ট পরিমার্জন ও সম্পাদনার সুযোগ রয়েছে।
“কাজেই উল্লিখিত অভিযোগের বাইরেও যে কোনো যৌক্তিক মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী পাঠ্যবইয়ের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা পরিমার্জন করা হবে।”



