Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দেশে প্রশাসনের সব স্তরে নারীর অবস্থান বাড়ছে

বর্তমানে দেশে সরকারি চাকরিজীবী আছেন ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৯২৭ জন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৯১ নারী। প্রথম শ্রেণিতে মোট চাকরিজীবী আছেন ১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৭৯ জন। এর মধ্যে নারী ৩৯ হাজার ৭৮৭ জন

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৩, ০৫:১৭ পিএম

দেশে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে নারীর সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৭ সালে দেশে নারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছিলেন ১০৬ জন। সেই সংখ্যা এখন ১৬০ জনের বেশি। একই সময়ে নারী জেলা প্রশাসক ছিলেন ৬ জন, এখন তা ১০ জন। নারী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ছিলেন ১৬ জন এখন তা ৬৩ জন।

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নারীর অবস্থান বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, সরকারের নানামুখী উদ্যোগের পাশাপাশি মানুষের সচতেনতাও এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। কর্মপরিবেশও ভালো হয়েছে, তবে এখনো বেশ ঘাটতি আছে। 

নারী কর্মকর্তারা বলছেন, বিশেষ করে চাকরিজীবী মা-বাবার কথা বিবেচনা করে কর্মক্ষেত্রে উন্নত মানের ডে-কেয়ার থাকা উচিত। এছাড়া নারীর জন্য আরও উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, পুরুষদের প্রথাগত মানসিকতা পরিবর্তনে সচেতনতা তৈরিসহ আরও কিছু কাজ করলে কর্মক্ষেত্রে নারীর অবস্থান আরও সুসংহত হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সরকারি চাকরিজীবী আছেন ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৯২৭ জন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৯১ নারী। প্রথম শ্রেণিতে মোট চাকরিজীবী আছেন ১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৭৯ জন। এর মধ্যে নারী ৩৯ হাজার ৭৮৭ জন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে মোট ৭৯ সচিব আছেন। এর মধ্যে নারী সচিব ১০ জন। অর্থ, শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো নারীরা সামলাচ্ছেন। 

এখন অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিন। তিনি দেশের প্রথম নারী অর্থসচিব। এছাড়া অন্য সচিবদের মধ্যে আছেন- অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা, কৃষিসচিব ওয়াহিদা আক্তার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত সচিব ফারহিনা আহমেদ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) নাসিমা বেগম, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সচিব হামিদা বেগম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসচিব নাহিদ রশীদ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব শাহনাজ আরেফিন। এ ছাড়া রয়েছেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) নাসরীন আফরোজ।

অবশ্য সচিব পদে নারীর সংখ্যাটি বেশ কয়েক বছর ধরেই দশের ঘরেই আটকে আছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) শাখার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩২৭ অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে ৫৫ জন নারী, ৮৫৮ যুগ্ম সচিবের মধ্যে ১৬৪ নারী, ১ হাজার ৭০৪ উপসচিবের মধ্যে ৩৭০ নারী, ১ হাজার ৮৬৭ জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ও জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনারের মধ্যে নারী ৬৮৯ জন৷ এছাড়া ১ হাজার ৪৪২ সহকারী কমিশনার বা সহকারী সচিবের মধ্যে নারী ৪৩৩ জন।

বর্তমানে ৬৪ জেলা প্রশাসকের মধ্যে ১০ জন নারী। এর মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার তিনটিতেই নারীরা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। তারা হলেন নেত্রকোনায় অঞ্জনা খান মজলিশ, শেরপুরে সালেহা আক্তার ও জামালপুরে শ্রাবস্তী রায়। তাদের মধ্যে অঞ্জনা খান নেত্রকোনার আগে চাঁদপুরেও ডিসির দায়িত্ব পালন করেছেন।

অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে অঞ্জনা খান বলেন, “প্রথমেই একজন নারীকে প্রমাণ করতে হয়, তিনি এ পদের যোগ্য কি-না। তবে ধীরে ধীরে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে। ভবিষ্যতে হয়তো আরও পরিবর্তন হবে।”

অন্য নারী ডিসিরা হলেন মাদারীপুরে রহিমা খাতুন, মুন্সিগঞ্জে কাজী নাহিদ রসুল, হবিগঞ্জে ইশরাত জাহান, রংপুরে চিত্রলেখা নাজনীন, ঝিনাইদহে মনিরা বেগম, ঝালকাঠিতে ফারাহ্ গুল নিঝুম ও বান্দরবানে ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন বলেন, তার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, নারী ডিসিদের কাছে মানুষ সহজেই আসতে পারেন। বিশেষ করে অনেক সমস্যা নারীকেন্দ্রিক হওয়ায় তারা খুব সহজেই তাকে বলতে পারেন। ডিসিদের মধ্যে নারীর সংখ্যা আরও বেশি হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি শাখার তথ্যমতে, এখন দেশে ৪৮০ ইউএনওর মধ্যে ১৬৪ জন নারী। দায়িত্বরত ইউএনওদের মধ্যে এই হার ৩৪%। এছাড়া দেশে ভূমিসংক্রান্ত দপ্তর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আছেন ১৩৩ নারী।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, “নারীর কর্মপরিবেশ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ায় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে নারীরা নেতৃত্বে আছেন। আগামী পাঁচ বছরে প্রশাসনে নারীর অবস্থান আরও উচ্চমাত্রায় যাবে বলে তিনি আশা করেন।”

   

About

Popular Links

x