Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জনশুমারিতে কেন হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হবে, প্রশ্ন মন্ত্রীর

জনশুমারির চলমান পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন সরকারের দুই মন্ত্রী

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৩, ০৭:৫৯ পিএম

জনশুমারির খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারের দুই মন্ত্রী। আর দেশের মোট জনসংখ্যা জানতে দশ বছর করে অপেক্ষার সঙ্গেও একমত নন তারা। বরং এই পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষেই মত তাদের।

দেশের জনসংখ্যার তথ্য পেতে আগামী এক বছরের মধ্যে নতুন উপায় বের করতে পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) নির্দেশ দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত “জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২–এর সমন্বয়কৃত জনসংখ্যার তথ্য প্রকাশ” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দুই মন্ত্রী।

এতে আরও বক্তব্য দেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব শাহনাজ আরেফিন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক বিনায়ক সেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মতিয়ার রহমান। সমন্বয়কৃত জনসংখ্যাসম্পর্কিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের পরিচালক দিলদার হোসেন।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রথম আলো।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, “আমাদের যন্ত্র আছে, জ্ঞান আছে, জনবল আছে। সরকারি কর্মকর্তা আছে। তাহলে কেন জনসংখ্যার তথ্য জানার জন্য দশ বছর অপেক্ষা করতে হবে? জনশুমারির পেছনে কেন দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হবে? এ ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

এজন্য নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্কের মতো দেশগুলো কীভাবে জনসংখ্যার হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে, তা পর্যালোচনা করতে বিবিএসকে নির্দেশ দেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়ার কথাও বলেন।

একইভাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, “নেদারল্যান্ডসে এক বছরের মধ্যে জনসংখ্যার তথ্য প্রকাশ করা হয়। ইউরোপের দেশগুলোতেও তা-ই হচ্ছে।”

বাংলাদেশেও এক বছরের মধ্যে জনশুমারির তথ্য প্রকাশ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার তাগিদ দেন তিনি।

এজন্য ঘটা করে জনশুমারি করার ধারা থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

প্রতি দশ বছর পর পর দেশে জনসংখ্যা গণনায় শুমারি করে পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর ১৯৮১ সালে দ্বিতীয়, ১৯৯১ সালে তৃতীয়, ২০০১ সালে চতুর্থ ও ২০১১ সালে পঞ্চম আদমশুমারি করা হয়।

২০১৩ সালে পরিসংখ্যান আইনে আদমশুমারির নাম বদলে “জনশুমারি” করা হয়।

সে অনুযায়ী ২০২১ সালে জনশুমারি হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড-১৯ মহামারী ও ট্যাব কেনা নিয়ে জটিলতায় এক বছর পর ২০২২ সালে ষষ্ঠ জনশুমারি হয়।

২০২২ সালের ১৫ থেকে ২১ জুন দেশজুড়ে জনশুমারি করা হয়।

জনশুমারি শেষে এক মাস পর প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করে বিবিএস।

এতে বলা হয়, দেশে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ।

এরপর এ শুমারিতে কত মানুষ বাদ পড়েছে তা নিয়ে আলাদাভাবে জরিপ করে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)।

ফেব্রুয়ারিতে তারা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, বিবিএসের শুমারিতে ২.৭৫ শতাংশ বা ৪৭ লাখ মানুষ বাদ পড়েছে।

এই সংখ্যাকে যোগ করলে দেশে প্রকৃত জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৬ কোটি ৯৮ লাখে।

শুমারির আওতায় না আসা সেই ৪৭ লাখ মানুষকে আমলে নিয়ে রবিবার নতুন সংখ্যা জানালো বিবিএস।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানায়, চূড়ান্ত বিচারে দেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ৪০ লাখ ৭৭ হাজার ২০৩ জন এবং নারী ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ১২০ জন।

প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন জানান, সবচেয়ে বেশি মানুষের বসবাস ঢাকা বিভাগে—৪ কোটি ৫৬ লাখ, যা মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৭ ভাগ। সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে—৯৩ লাখ, যা মোট জনগোষ্ঠীর সাড়ে পাঁচ ভাগ। মুসলমানের সংখ্যা ১৫ কোটি ৪৫ লাখ বা ৯১%। অন্য ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ১ কোটি ৫২ লাখ বা ৮.৯৫%।

যদিও এই জনশুমারিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কতসংখ্যক প্রবাসী বসবাস করেন তার তথ্য উঠে আসেনি।

এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন জানান, জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত আছে। ওই সময়ের মধ্যে বিদেশে অবস্থানকারী প্রবাসীদের তথ্য দেওয়া হবে। এই তথ্য প্রকাশে কোনো বাধা নেই।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কতসংখ্যক প্রবাসী বসবাস করছেন, তা জানতে সবার আগ্রহ আছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তথ্যটি প্রকাশ করা যেত। এটা তেমন কঠিন ছিল না। এর আগে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময়ও এ তথ্য দেওয়ার কথা ছিল।” তবে তিনি বিবিএসের ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দেন।

এদিন সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “এটাই যাতে শেষ জনশুমারি হয়। জনসংখ্যার তথ্য জানতে এরপর আমাদের যাতে আরও দশ বছর অপেক্ষা করতে না হয়।”

এছাড়া দশ বছর পরপর জনশুমারি না করে এক বছরের মধ্যে জনসংখ্যার তথ্য দেওয়া–সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও দেবেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

About

Popular Links