Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দক্ষিণ এশিয়ায় কিশোরী গর্ভধারণের শীর্ষে বাংলাদেশ

দেশে ১৫-১৯ বছর বয়সী প্রতি ১,০০০ মেয়ের মধ্যে কিশোরী জন্মের হার ৭৪

আপডেট : ০২ মে ২০২৩, ০৩:১৬ পিএম

বাংলাদেশে প্রতি চারজন বিবাহিত কিশোরীর মধ্যে একজন সন্তান ধারণ করে। যে কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কিশোরী গর্ভধারণের শীর্ষে উঠে এসেছে দেশটি।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ১৫-১৯ বছর বয়সী প্রতি ১,০০০ মেয়ের মধ্যে কিশোরী জন্মের হার ৭৪।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে ৫১% কিশোরী ১৮ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই বিয়ে হয়। যেখানে ২৭%-এর ১৫ বছর বয়সের আগেই বিয়ে হয়। ফলে, এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার সবচেয়ে বেশি।

এদিকে, মাতৃমৃত্যুর অনুপাত প্রতি ১,০০,০০০ জনে ১২৩ জন মারা যায়।

“এইট বিলিয়ন লাইভস, ইনফিনিট পসিবিলিটিস: দ্য কেস ফর রাইটস অ্যান্ড চয়েসেস” শিরোনামে ওই প্রতিবেদন ১৯ এপ্রিল প্রকাশিত হয়েছে। রবিবার ঢাকায় বইয়ের একটি প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

ইউএনএফপিএ প্রতি বছর ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনা স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিপোর্ট প্রকাশ করে। এটি বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন ও জনসংখ্যার প্রবণতার তথ্য প্রকাশ করে।

ইউএনএফপিএর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “জনসংখ্যার প্রবণতা বাস্তব ও ব্যাপকভাবে প্রভাবশালী। তারা সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্পর্ক, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক আলোচনাকে প্রভাবিত করে।”

“এছাড়া এই কারণগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি মানুষের মনোভাবকে গঠন করে, সম্পদ বরাদ্দ নির্ধারণ করে, কর্মশক্তিতে পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করে ও অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবিত করে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউএনএফপিএর এক কর্মকর্তা বলেন, “২০২২ সালের নভেম্বরে বিশ্বের জনসংখ্যা রেকর্ড ৮ বিলিয়নে পৌঁছেছে। অনেকেই মনে করেন নারীদের উর্বরতার হারের কারণেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

“জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বিশ্ব বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে, আর্থিক সংকট, সামাজিক অবস্থার অবনতি ও জীবনযাত্রার মান খারাপ। “এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলো আরও গুরুতর হয়ে উঠছে। ফলে অনেকেই মনে করেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য শিশু জন্মের সংখ্যা সীমিত করতে হবে।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশের ইউএনএফপিএ প্রতিনিধি ক্রিস্টিন ব্লকুস বলেন, “পুরো পরিস্থিতিতে নারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

ব্লকহাস বলেন, “এটা প্রায়ই ধরে নেওয়া হয় বিশ্ব জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নারীদের সন্তান জন্মদানের উপর বর্তায়। তবে, এটি শুধুমাত্র প্রজনন নীতির ওপর নির্ভর করে না।”

তিনি বলেন, “এখানে কোনো লিঙ্গ সমতা নেই। নারীদের তাদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে লিঙ্গ অধিকারের অনুপস্থিতি স্পষ্ট। বিশ্বজুড়ে মান উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী কাঠামো এবং নীতি প্রয়োজন, এখানে বিশ্বের দুর্দশার জন্য প্রজনন হারকে দায়ী করা যায় না। আমাদের অবশ্যই নারীদের ক্ষতি রোধ করতে হবে।”

বাংলাদেশের বিষয়ে ব্লকহাস বলেন, “প্রায় ২৩% নারী তাদের সঙ্গীদের হাতে সহিংসতার শিকার। দুই-তৃতীয়াংশ নারীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার (এসআরএইচআর) সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।”

আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নারীদের (৫০.৪৩%) সংখ্যা পুরুষদের (৪৯.৫১%) চেয়ে বেশি। যা সমাজ ও অর্থনীতি উভয়ের জন্যই উল্লেখযোগ্য প্রভাব বহন করে। জনসংখ্যার বয়স কাঠামো একটি জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নির্দেশ করে। জনসংখ্যার ২৬% এর বয়স ০-১৪ এর মধ্যে, ৬৮% এর বয়স ১৫-৬৪ এর মধ্যে এবং ৬% ৬৫ বা তার বেশি বয়সী।

প্রায় ৫০% গর্ভধারণ অনিচ্ছাকৃত হয় ও প্রতি বছর প্রায় অর্ধ মিলিয়ন শিশু কিশোর-কিশোরীদের সন্তান জন্ম হয়। 

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৬৮টি দেশের প্রায় ৪৪% নারীর স্বাস্থ্যসেবা, গর্ভনিরোধক বা যৌন কার্যকলাপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার অভাব রয়েছে।

ইউএনএফপিএ-এর প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, “প্রত্যেক ব্যক্তির তাদের সন্তানদের মধ্যে সংখ্যা, সময় এবং বয়সের ব্যবধান স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে।”

“কোনো বৈষম্য, জবরদস্তি বা সহিংসতা ছাড়াই যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হওয়ার নিরাপত্তা নারীদের থাকতে হবে।”

“এছাড়া প্রজনন লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য পরিষেবা সহজে পাওয়া, বিভিন্ন সামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া ও আন্তর্জাতিক মানের হওয়া উচিত।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “প্রজনন স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যে গর্ভনিরোধ, ব্যাপক যৌন শিক্ষা, নিরাপদ গর্ভপাত এই দেশে আইনের মাধ্যমে অনুমোদিত। এতে গর্ভপাত পরবর্তী যত্ন ও বন্ধ্যাত্বের যত্ন অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।”

About

Popular Links