Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিসিএসে পদ ২,৩০৯টি, ভোরে কেবল ঢাবির লাইব্রেরিতে লাইন দুই হাজার জনের

আগামী ১৯ মে ৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি হওয়ার কথা রয়েছে। এ বছর একটি পদের বিপরীতে পরীক্ষায় বসবেন প্রায় ১৩৭ জনেরও বেশি চাকরিপ্রত্যাশী

আপডেট : ১৭ মে ২০২৩, ০৮:২৪ পিএম

দেশে বর্তমানে মোট বেকার প্রায় ২৬ লাখ। এ বছরের প্রথম তিন মাসে দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার। বেকারদের জনসম্পদে রূপান্তরে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও আছে। এছাড়া কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ। তারপরও অর্থনৈতিক ও সামাজিক অনিরাপত্তার জায়গা থেকে তরুণরা সরকারি চাকরির পেছনেই বেশি ছোটেন। বিশেষ করে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার দিকে ঝোঁক বেশি তাদের।

তবে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশীর চেয়ে বিসিএসে পদসংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। আগামী ১৯ মে ৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি হওয়ার কথা রয়েছে। এ বছর একটি পদের বিপরীতে পরীক্ষায় বসবেন প্রায় ১৩৭ জনেরও বেশি চাকরিপ্রত্যাশী।

সরকারি কর্ম কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য বলছে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর পিএসসির ওয়েবসাইটে ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আবেদনের জন্য প্রায় এক মাস সময় পান প্রার্থীরা। এই বিসিএসে মোট আবেদন করেছেন ৩ লাখ ১৮ হাজার প্রার্থী।

৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ৪৫তম বিসিএসে ২,৩০৯ জন ক্যাডারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে চিকিৎসায়। সহকারী ও ডেন্টাল সার্জন মিলিয়ে ৫৩৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। চিকিৎসার পর সবচেয়ে বেশি শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পাবেন ৪৩৭ জন। এছাড়া পুলিশে ৮০, কাস্টমসে ৫৪, প্রশাসনে ২৭৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। নন-ক্যাডারে নেওয়া হবে ১,০২২ জনকে।

বিসিএস প্রিলিমিনারি বলা চলে রাত পোহালেই। প্রত্যেক বছরের মতো এবারও চাকরিপ্রত্যাশীরা শেষ সময়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। দেশের উচ্চশিক্ষার সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সেই দৃশ্যই দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, ঢাবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বিসিএস চাকরিপ্রত্যাশীদের ভীড় বেড়েছে। সেখানে ভোর থেকেই ব্যাগ রেখে সিরিয়াল নেন প্রত্যাশীরা। তাদের হাতে বিসিএসভিত্তিক বিভিন্ন বইপত্র দেখা গেছে। এই লাইব্রেরিতে একসঙ্গে বসে পড়ার মতো সিট রয়েছে দেড় হাজার জনের। তবে প্রত্যেকদিন সেখানে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়ছেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাবির লাইব্রেরির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, “গ্রন্থাগারে এখন যারা পড়তে আসেন, তাদের বেশির ভাগই বিসিএস প্রার্থী। পড়তে আসা গবেষকের সংখ্যা খুবই কম। এই গ্রন্থাগারের ধারণক্ষমতা ১,৫০০ জনের। তবে একসঙ্গে ২,০০০ জন পড়তে পারেন।”

বেসরকারি খাতে অনিশ্চয়তায় বিসিএসে ঝোঁক

অধিকাংশ চাকরিপ্রার্থী সরকারি চাকরিকেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ মনে করেন। করোনাভাইরাস মহামারিতে তাদের এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে। 

ঢাবির ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুল হক ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, “দেশে বেসরকারি খাতে ভালো চাকরি পাওয়া খুব সহজ না। তারপরও মহামারির কারণে যেটা দেখলাম, এই সেক্টরে খুব বেশি অনিশ্চয়তা। উপযুক্ত কারণ ছাড়াই যেকোনো সময় ছাঁটাই করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিসিএস বা সরকারি চাকরিতে অনেক বেশি নিশ্চয়তা রয়েছে।”

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আহাদ হোসেন বলেছিলেন, “সরকারি চাকরির সবচেয়ে বড় সুবিধা চাকরির নিরাপত্তা। আমার পরিচিত যারা আছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, বেসরকারি চাকরিতে কোনো নিরাপত্তা নেই। যেকোনো সময় চাকরি চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এদিক দিয়ে দেখলে সরকারি চাকরি হুট করে চলে যাওয়ার কোনো ভয় নেই।”

উত্তরণের পথ

বিসিএস চাকরির দিকে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকে পড়ার কারণ হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটির কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর।

তিনি বলেন, “আমাদের উচ্চতর শিক্ষাব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। যে কারণে শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। একই সঙ্গে চাকরির বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তাই জব সল্যুশন বা চাকরির গাইডজাতীয় বই পড়তে বাধ্য হচ্ছেন তারা।”

অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজের এক মতামতধর্মী লেখায় নাদিম মাহমুদ পরামর্শ দেন, “সময় এসেছে বিসিএস বিকেন্দ্রকরণ সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার। এইভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। কেবল এই ক্যাডার ভিত্তিক কমসংস্থানের লোভে অনেক মেধাবীদের আমরা হারিয়ে ফেলছি। যাদের কাজ ছিল, শিক্ষা-গবেষণায় নিজেদের উজাড় করে দেওয়া- তারা পাপেটের মতো মুখস্ত ডায়লগ আওড়াতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। উগলে দেওয়া স্মৃতি শক্তির পরীক্ষায় কখনো সৃজনশীলতা প্রকাশ পায় না। সৃজনশীলতার জন্য প্রয়োজন বিশদ পরিবেশ।”

তার মতে, “আমলাতান্ত্রিক চাকরি ব্যবস্থা রুখতে সরকারের উচিত, নতুন কোনো কমিশন করে দেওয়া, যারা সরকারি চাকরির আদলে বেসরকারি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কাজটি করবে। চাকরির নিরাপত্তা বা সুরক্ষার বিষয়ে অন্যদের এগিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করি। যদি তা করা সম্ভব না হয়, আমরা আমাদের তারুণ্যকে হারিয়ে ফেলবো। আজ যদি সরকারি চাকরির সাথে অন্যান্য চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বৈষম্য কমিয়ে আনা যেত, তাহলে আমরা এভাবে দিনের পর দিন আমলাকেন্দ্রিক চাকরির নেশায় ছুটতো না। দীর্ঘমেয়াদী বিসিএস পরীক্ষায় সফলতার লোভে বেকারত্বের ডেমোগ্রাফ উর্ধ্বমূখী হতো না।”

About

Popular Links