Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রাসেল'স ভাইপার আতঙ্কে গড়াই তীরের মানুষ

বাংলাদেশে প্রতি বছর অন্তত ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন এবং এদের মধ্যে ছয় হাজার মানুষ মারা যান

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৩, ০১:১০ পিএম

বাংলাদেশের অত্যন্ত বিষধর সাপের মধ্যে একটি রাসেল'স ভাইপার। স্থানীয়ভাবে এটি চন্দ্রবোড়া নামে পরিচিত। এই সাপটি প্রায় বিলুপ্তির হাত থেকে ফিরে এখন মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়ায় প্রায়ই এই সাপের উপদ্রব, দংশন ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

সবশেষ মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সদর উপজেলার জুগিয়া বটতলা এলাকায় গড়াই নদীর পাড়ে এই সাপের দংশনের শিকার হন ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম রাজা (৫৫)। তিনি সাপটিকে মেরে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গত ৩ জুলাই রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর চরপাড়া গ্রামের জাহিদ প্রামাণিক নামে এক কৃষক ক্ষেতে কাজ করার সময় তার ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে রাসেল'স ভাইপার ছোবল দেয়। তিনিও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।  

গত ৩০ জুন কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর পাড় সংলগ্ন সবজি ক্ষেত থেকে রাসেলস ভাইপার সাপ উদ্ধার করে বাংলাদেশ জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন ও “মানুষ মানুষের জন্য” কুষ্টিয়ার সদস্যরা।

হঠাৎ করেই কুষ্টিয়ায় এই সাপের উপস্থিতি বেশ আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকছে এই সাপ। বিশেষ করে বন্যা ও নদীর পানিতে ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশে ঢুকছে। আর অতিদ্রুত এটি বংশবিস্তার করে চলছে।

২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফরিদ আহসানের একটি গবেষণা প্রতিবেদন জার্নাল অব দি এশিয়াটিক সোসাইটিতে প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, দেশের ১৭টি জেলাতে রাসেল'স ভাইপারের উপস্থিতি রয়েছে। যার মধ্যে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুষ্টিয়া অন্যতম জেলা হিসেবে দেখানো হয়। দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে এই সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন অধ্যাপক ফরিদ।

বাংলাদেশে রাসেল'স ভাইপারের দংশনের হার খুব বেশি নয়। তবে যে হারে তা বাড়ছে তাতে শঙ্কা থেকেই যায়। ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি রাসেল'স ভাইপার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ভারতে প্রতি বছর অন্তত ৪৩% এবং শ্রীলঙ্কায় ৩০-৪০% সাপে কাটার ঘটনা রাসেল'স ভাইপারের কারণে হয়ে থাকে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৮ সালের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন, যাদের মধ্যে অন্তত এক লাখ মানুষ মারা যান। সাপের কামড়ে আহত হয়ে বছরে প্রায় ৪ লাখ মানুষের শরীরের নানা অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা তারা পঙ্গুত্ব বরণ করেন। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর অন্তত ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন এবং এদের মধ্যে ছয় হাজার মানুষ মারা যান।

রাসেল'স ভাইপার কামড় দেওয়ার পর দংশিত স্থানে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হয় এবং ফুলে যায়। সেই সাথে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে এর আশপাশের কিছু জায়গাও ফুলে যায়।   

এছাড়া সাপে কাটা অংশে বিষ ছড়িয়ে অঙ্গহানি, ক্রমাগত রক্তপাত, রক্ত জমাট বাঁধা, স্নায়ু বৈকল্য, চোখ ভারি হয়ে যাওয়া, পক্ষাঘাত, কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন রকম শারীরিক উপসর্গ দেখা যেতে পারে। 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, রাসেল'স ভাইপার সাপ অত্যন্ত বিষধর। এর কামড়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যদিও এর প্রতিষেধক রয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া হলে এ থেকে বাঁচা সম্ভব।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস আই সোহেল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “খুবই বিষাক্ত রাসেল'স ভাইপার সাপ ডিম পাড়ে না। সাপটি সরাসরি ২০ থেকে ৪০টির অধিক বাচ্চা দেয়। এজন্য এই সাপের অতিদ্রুত বংশ বিস্তার হচ্ছে।”

কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন সাতটি রাসেলস ভাইপার সাপ উদ্ধার করেছে। 

কুষ্টিয়ায় এই সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে এস আই সোহেল বলেন, “গত কয়েক বছরে গড়াই নদী সংলগ্ন এলাকায় রাসেল'স ভাইপার সাপের উপদ্রব বেড়েছে। বন্যার সময় এই সাপ বেশি দেখা যায়। এ সময় সাবধানে চলাচল করতে হবে।”

About

Popular Links