মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ আন্দোলনে বিএনপির উসকানি আছে বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
তিনি বলেছেন, “যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য নানান রকম কর্মকাণ্ড অতীতে করেছে, যারা জনগণকে সম্পৃক্ত করে কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছে না, তারা একেক সময় একক গোষ্ঠীর ওপর সওয়ার হয়।” এ সময় শিক্ষকদের কোনো ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (২৪ জুলাই) আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে গত ১১ জুলাই থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে চূড়ান্ত আশ্বাস শিক্ষকরা পাননি উল্লেখ করে আন্দোলন চলমান রাখার ঘোষণা দেন।
শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “সবাই চলে গেছেন। এখনো যারা আছেন, তারা হয়তো আরও কিছু দিন বসে থেকে চলে যাবেন। শিক্ষকদের জায়গা শ্রেণিকক্ষে। শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে এ ধরনের কর্মসূচি পালন একেবারেই ঠিক নয়। কাজেই আমি আশা করব, যেহেতু আলাপ-আলোচনা হয়ে গেছে, আর যেহেতু আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি, তারা যেন শ্রেণিকক্ষে ফিরে যান।”
দীপু মনি বলেন, “মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণে দুটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি কাজ করার পর রিপোর্ট দিলে তখন সরকার ব্যবস্থা নেবে। এখানে বিশাল আর্থিক বিষয় জড়িত রয়েছে।”
আন্দোলনে বিএনপির উসকানির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে নির্বাচন এলে তার আগে আন্দোলন শুরু করেন। সবাই ভাবেন, এই সময় আন্দোলন করতে পারলে, সরকারের ওপর চাপ-টাপ দিলে… কিন্তু সরকার কোন চাপ নিতে পারবে, কোন চাপ নিতে পারবে না, কোনটি করা সম্ভব, কোনটি তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব নয়, কোনটির জন্য সময় প্রয়োজন- এগুলো কিন্তু আন্দোলনকারীদের বুঝতে হয়, বুঝতে হবে। আমাদের গণতন্ত্রেরও অনেক বছর হয়ে গেছে। আপনি উসকানির কথা বলছেন, অবশ্যই উসকানি আছে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য নানান রকম কর্মকাণ্ড অতীতে করেছে, যারা জনগণকে সম্পৃক্ত করে কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছে না, তারা একেক সময় একক গোষ্ঠীর ওপর সওয়ার হয়। আজকে যারা আন্দোলন করছেন, শিক্ষকদের ওপর সওয়ার হয়ে তাদের আন্দোলনকে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা তো থাকতেই পারে। আমি শিক্ষকদের বলবো- এমন কোনো ফাঁদে পা দেবেন না।”



