Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শতবর্ষী কালুরঘাট সেতুর সংস্কার শুরু

আগামী তিন মাস সেতু দিয়ে ট্রেন ও গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৩, ০৩:২১ পিএম

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর ওপর প্রায় শতবর্ষী (৯২ বছর) কালুরঘাট সেতুটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। দোহাজারী-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর আগেই সেতুটি মজবুত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় মঙ্গলবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে কালুরঘাট সেতু দিয়ে ট্রেন ও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। অর্থাৎ আগামী তিন মাস সেতু দিয়ে ট্রেন ও যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

এই সময়ের মধ্যে যানবাহন পারাপারের জন্য কর্ণফুলী নদীতে তিনটি ফেরি প্রস্তুত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়া।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, “নদী পারাপারের জন্য ফেরি পাওয়া যাবে এবং সংস্কারকাজের সময় আরও দুটি অতিরিক্ত ফেরির ব্যবস্থা করা হবে। কোনো ফেরিতে কোনো সমস্যা হলে অতিরিক্ত আরেকটি ফেরির ব্যবস্থা করা হবে।”

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফেরি দিয়ে নদী পারাপারে যানবাহনের জন্য টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রাক বা কভার্ড ভ্যানের জন্য ৫৬৫ টাকা, মাঝারি আকারের ট্রাকের জন্য ৪৫০ টাকা, দূরপাল্লার বাসের জন্য ২০৫ টাকা, মিনিবাসের জন্য ১১৫ টাকা, মিনি ট্রাকের জন্য ১৭০ টাকা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত ছোট গাড়ির জন্য ১৩৫ টাকা, মাইক্রোবাস এবং পিকআপের জন্য ৯০ টাকা, অটোরিকশা, রিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য ২৫ টাকা, মোটরসাইকেলের জন্য ১০ টাকা এবং রিকশা, ভ্যান ও সাইকেলের জন্য ৫ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সেতুটির সংস্কার কাজে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরামর্শক দলের সুপারিশ অনুযায়ী সেতুটির সংস্কার করা হচ্ছে।

আগে সেতু দিয়ে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনে ১০ টন ভারি ইঞ্জিন চলাচল করত। সেতু পার হওয়ার সময় গতি থাকত ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার। তবে সংস্কারের পর কক্সবাজারগামী ইঞ্জিনের ওজন হবে ১২-১৫ টন এবং ট্রেনের গতি হবে ঘণ্টায় ৮০-১০০ কিলোমিটার। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সংস্কার ছাড়া দোহাজারী-কক্সবাজার রেল যোগাযোগের সুফল পাওয়া যাবে না।

রেলওয়ে প্রকৌশলীরা জানান, এর আগে ২০০৪ সালের ১৩ আগস্ট ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতুতে বড় ধরনের সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। এরপর ২০১২ সালে আরেক দফা সংস্কার করা হয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৯৩১ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাট সেতু নির্মাণ করে ব্রুনিক অ্যান্ড কোম্পানি নামের সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগের জন্য এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। যদিও পরে দোহাজারী পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয় এই রেললাইন।

৬৩৮ মিটার দীর্ঘ কালুরঘাট সেতুটি ২০০১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০০৪ ও ২০১২ সালে দুই দফায় সেতুটি সংস্কার করেছিল। কিন্তু এরপরও সেতুটির অবস্থা জরাজীর্ণ। এ অবস্থায় সেতুটির ওপর দিয়ে ট্রেনের পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও পটিয়াগামী গাড়িও চলাচল করে। ট্রেন চলাচল করলে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। একমুখী যান চলাচলের কারণে সব সময় যানজট লেগে থাকে। যাত্রী ও চালকদের প্রচণ্ড ভোগান্তি পোহাতে হয়।

   

About

Popular Links

x