Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আয়েশ করে ঘুমাবেন তাই সরকারি চাকরিটাই ছেড়ে দিলেন সুনীল

ঘুমপ্রেমী সুনীল শান্তিতে ঘুমানোর জন্য ছেড়ে দিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চাকরি। ধরেছেন ওষুধের ব্যবসা

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩, ০৫:৩০ পিএম

সরকারি চাকরি সোনার হরিণ, পরম আরাধ্য। অন্তত বর্তমানে দেশের বাস্তবতা এমনই। যে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে পড়েন লাখো তরুণ, সেই চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছেন সুনীল কুমার দে। কারণ? ঘুম! আয়েশ করে ঘুমাতে চান তিনি। 

সুনীলের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানীবহ ইউনিয়নে। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে উপ-পরিদর্শকের (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরিই ছেড়ে এখন তিনি শান্তি করে ঘুমাতে পারবেন।

সুনীলের ভাষ্য, কাজের জন্য রাতবিরেতে অভিযানে নামতে হতো তাকে। ঘুমটা ঠিক জমত না। ঘুমপ্রেমী সুনীল তাই ছেড়ে দেন চাকরি। এখন তিনি স্থানীয় বানীবহ বাজারে ওষুধের ব্যবসা করছেন। ঘুম থেকে ওঠেন বেলা ১২টায়।

১৯৯৬ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সিপাহী পদে যোগ দেন সুনীল। কাজের কারণে চাকরির শুরু থেকেই ঠিকমতো ঘুম হতো না তার। ধীরে ধীরে এসআই পদে পদোন্নতি পান। এতে কাজের চাপ আরও বেড়ে যায়। কাজ শেষে অনেক সময় ঘুমাতে ঘুমাতে ভোরও হয়ে যেত। ঘুম ভাঙতে গড়িয়ে যেত দুপুর। সেই থেকে তার অভ্যাস হয়ে যায় দুপুর পর্যন্ত ঘুমানোর। কিন্তু তার শান্তির ঘুমে অশান্তির কারণ ছিল চাকরি। সময়ে-অসময়ে ডাক পড়ত অফিস থেকে। একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেন চাকরিটাই ছেড়ে দেওয়ার।

অবশেষে ২০২১ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন সুনীল। বাড়ির কাছেই করেন ওষুধের দোকান। এখন আর তার শান্তির ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে আসে না কেউই। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে ধীরে-সুস্থে দোকান খোলেন তিনি।

সুনীল কুমার দে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি ঘুমপ্রেমী মানুষ। ঠিকমতো ঘুম না হলে মাথা ঠিক থাকত না। চাকরিতে থাকাকালীন আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম না। ২০২৬ সাল পর্যন্ত আমার চাকরির মেয়াদ ছিল। কিন্তু এই ঘুমের কারণে চাকরিটা আর করতে পারলাম না। এখন আর ডিউটির কোনো চাপ নেই। যখন ইচ্ছে স্বাধীনভাবে ঘুমাতে পারি।”

সুনীলের স্ত্রী তাপসী দাস বলেন, “আমার স্বামী সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না। বেলা ১২টার আগে তার ঘুম ভাঙে না। যে কারণে তিনি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে চলে এসেছেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত না ঘুমালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।”

সুনীল কুমারের ওষুধের দোকানে কর্মচারী প্রতিবেশী অভয় সরকার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার কারণে সুনীল দা চাকরি ছেড়ে এসেছেন। বর্তমানে তিনি ওষুধের দোকান করছেন। তিনি দোকান খোলেন দুপুর ১টায়। তবে অনেক রাত পর্যন্ত দোকানে থাকেন। তার মতো বিনয়ী মানুষ খুব কমই আছেন।”

   

About

Popular Links

x