Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শোক দিবসে শাহজালাল-শাহপরাণের মাজারে মেয়রের গণভোজ

হযরত শাহ জালাল (রঃ) এবং হযরত শাহ পরাণ (রঃ)-এর মাজারে আয়োজিত এই গণভোজে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ অংশ নেন

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৩, ০৭:২৭ পিএম

সিলেটে এমনটি দেখা যায়নি এর আগে। সকাল থেকে রাস্তায় লাইন ধরে চলেছেন সাধারণ মানুষ। সবার গন্তব্য নগরীর দুই মাজারের উদ্দেশ্যে। কেউবা হযরত শাহ জালাল (রঃ) আবার কেউবা হযরত শাহ পরাণ (রঃ)-এর মাজার মাজারমুখী।

সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে গণভোজ ও শিরনি বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর উদ্যোগে এবারই প্রথম সিলেটবাসী পেলেন একসঙ্গে দু’টি গণভোজ।

সোমবার (১৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয় একটি ব্যতিক্রমী সংবাদ। মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে দু’টি গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে সিলেটে। একটি হযরত শাহ জালাল (রঃ)-এর মাজার প্রাঙ্গণে। অপরটি হযরত শাহ পরাণ (রঃ)-এর মাজারে।

এমন সংবাদে সাড়া পড়ে সিলেট মহানগরজুড়ে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে আগ্রহী হয়ে উঠেন সাধারণ মানুষও।

সোমবার রাত থেকে দুই মাজার প্রাঙ্গণে সার্বিক প্রস্তুতির কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মধ্যে ছিলেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ এবং অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা প্যান্ডেল তৈরি, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, বসার জায়গা, সামিয়ানা টানানো, রান্না-বান্না, মহিলাদের বসার জন্য বিশেষ জায়গার ব্যবস্থা ইত্যাদির কাজ তদারকি করেন।

এরপর সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে শাহজালাল ও শাহপরানের মাজারমুখী মানুষের ঢল নামে। কেউ রিকশা, কেউবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা আবার কেউবা পদব্রজে রওয়ানা হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ১৫ আগস্ট দুপুর ২টায় গণভোজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১২টার মধ্যেই দু’টি ভেন্যুই লোকারণ্য হয়ে পড়ে। সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আওয়ামী ঘরানার বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ছিলেন সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি ও শাহপরান থানা পুলিশ।

জোহরের নামাজের পরপরই হযরত শাহ জালাল (রঃ)-এর মাজারের মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের সব শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই দুই ভেন্যুতে একযোগে খাবার পরিবেশন শুরু হয়। চলে একটানা বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

হযরত শাহ পরাণ (রঃ)-এর মাজার মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় আসরের নামাজের পর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই ভেন্যুতে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ গণভোজে অংশ নেন।

এদিকে সিলেটে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে এমন আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকার একটি মেসে থাকেন দিনমজুর মিন্টু মহারাজ (৪৫)। তিনি নরসিংদীর বাসিন্দা। ছেলেকে নিয়ে প্রথম পর্বেই গণভোজে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

খাবার শেষে মিন্টু মহারাজ বলেন, “সিলেটে গত ২০ বছর ধরে আছি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই অংশগ্রহণ করি। সেগুলো সাধারণত কাঙালি ভোজ হিসাবে পরিচিত। এই প্রথম গণভোজে অংশগ্রহণ করলাম। খাবার যথেষ্ট ভালো ছিল। এজন্য মেয়র আনোয়ারুজ্জামানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”

সাধারণ মানুষের মতো ব্যাপক সাড়া পড়েছে দলীয় নেতাকর্মীসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে। এ প্রসঙ্গে যুবলীগ নেতা রুহেল আহমদ বলেন, “শোক দিবসে মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের আয়োজন সিলেটে বিরল। এমন আয়োজন এর আগে সিলেটে হয়নি। কাঙালি ভোজ, শিরনি বিতরণ ইত্যাদি বিভিন্ন সময়ে হয়েছে। আগামীতেও হবে। কিন্তু গণভোজ এই প্রথম।”

গণভোজে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ মেয়র কাছ থেকে আরও নানা অভিনব আয়োজনের প্রত্যাশা করেছেন।

এদিকে আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবেই দুটি গণভোজ শেষ হয়েছে। প্রায় ১৫ হাজারের বেশী মানুষ গণভোজে অংশগ্রহণ করেছেন।

মিলাদ ও গণভোজে উপস্থিত উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খানসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাসহ সর্বস্তরের জনগণ।

   

About

Popular Links

x