Monday, July 20, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চমেকে বিকল রোগ নির্ণয়ের একাধিক মেশিন, রোগীদের দুর্ভোগ

৪ আগস্ট থেকে সিটি স্ক্যান মেশিনটি বন্ধ থাকলেও এটি মেরামতে ব্যবস্থা নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৩, ০৮:৪৪ পিএম

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের একাধিক মেশিন বিকল হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগীরা।

তথ্য বলছে, গত ২১ দিন ধরে বন্ধ সিটি স্ক্যান পরীক্ষা। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরেই এমআরই, ব্র্যাকি থেরাপি, ক্যাথল্যাব মেশিন অকার্যকর রয়েছে। অচল রয়েছে ডজন খানেক মেশিন।

এ মাসের ৪ আগস্ট থেকে সিটি স্ক্যান মেশিনটি বন্ধ থাকলেও এটি মেরামতে ব্যবস্থা নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মেশিন বিকল হওয়ায় গরিব রোগীদের প্রতিদিন হাসপাতালের বাইরের রোগ নির্ণয়কেন্দ্র থেকে সিটি স্ক্যান করাতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেশি টাকা ব্যয় এবং দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

সিএমএইচের রেডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুবাস চন্দ্র মজুমদার বলেন, “হাসপাতালে দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন রয়েছে। দুটিই এখন বিকল। এরমধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে অলস পড়ে আছে। আরেকটি অচল হয়েছে গত ৪ আগস্ট।”

রোগীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে রেডিওলজি বিভাগের প্রধান বলেন, “বেসরকারিভাবে পরিচালিত হাসপাতালে পরীক্ষা করালে রোগীদের অতিরিক্ত অতিরিক্ত ফি দিতে হয়।”

তিনি বলেন, “মেশিনটি সচল করতে কাজ চলমান রয়েছে। তাও আরও কয়েকদিন লাগবে।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সাল থেকে চমেক হাসপাতালে সিটি স্ক্যান পরীক্ষা সেবা শুরু হয়। এভাবে টানা ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেবা অব্যাহত থাকে। তবে ওই বছরই আগস্ট মাসে পুরোনো সিটি স্ক্যানটি অকেজো হয়ে পড়ে। এরপর চার বছর সিটি স্ক্যান বন্ধ থাকে হাসপাতালে।

২০১৮ সালে নতুন একটি সিটি স্ক্যান বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আরও এক বছর পর ১৯ সালের দিকে নতুন মেশিনের সেবা চালু হয়। এভাবে চলছে ২০২৩ সাল পর্যন্ত। মাঝে কয়েকবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার এসে ঠিক করে দেয়।

সর্বশেষ গত ৬ জুন মেশিনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সে মাসের ২৩ জুন মেশিনটি সচল হয়। কিন্ত কয়েক দিন না যেতে ৪ আগস্ট তা আবার বন্ধ হয়ে যায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে সিটি স্ক্যান মেশিনটি স্থাপন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেডিটেল প্রাইভেট লিমিটেড। ২০১৯ সালের মার্চে এই সিটি স্ক্যান মেশিনটির সেবা পুরোপুরি চালু হয়। মেশিনটির ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়ারেন্টির মেয়াদ রয়েছে।

এদিকে সিটি স্ক্যান সচল থাকতে প্রতিদিন ৫০ জনের পরীক্ষা করানো যেত। সকাল ৮ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত চলত এই সেবা। পরীক্ষা ভেদে সিটি স্ক্যান বাবদ চমেক হাসপাতালে ফি ২,০০০ ও ৪,০০০ টাকা। তবে চমেক হাসপাতালের ২,০০০ টাকার এ ফি প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৩,০০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা। আর হাসপাতালের চার হাজার টাকার এ ফি বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা দিতে হয় রোগীদের।

জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত সালামা বেগম জানান, চিকিৎসকরা তাকে সিটি স্ক্যান ও ব্র্যাকিথেরাপিসহ তিনটি টেস্ট করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারমধ্যে সিটি স্ক্যান, আরও একটি পরীক্ষা এভারকেয়ারে করতে পরামর্শ দেন। ব্র‍্যাকি-থেরাপি ঢাকা গিয়ে করতে পরামর্শ দেন। কারণ এটি চট্টগ্রামে আরও কোথাও নেই। আগে চমেক হাসপাতালে করা হতো। মেশিনটি অচল প্রায় এক বছর। তাই সেবাও বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, “চিকিৎসক দেখানো ছাড়া আরও কোনো সেবা পাওয়া যায় না হাসপাতালে। ওষুধ, পরীক্ষা সব বাইরে থেকে করতে হয়। আমাদের মতো গরিব রোগীদের দেখবার যেন কেউ নেই।”

চন্দনাইশের বাসিন্দা রাকিব হাসান জানান, স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোগ নিরূপণের জন্য চিকিৎসক তার সিটি স্ক্যান করাতে বলেন। হাসপাতালে সেবা বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে তার সিটি স্ক্যান করাতে হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান বলেন, “সিটি স্ক্যানসহ অচল হয়ে পড়া সব মেশিন খুব দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি আমরা দ্রুত মেরামত করে চালু করতে পারব।

   

About

Popular Links

x