মানিকগঞ্জে সরকারি গুদাম থেকে ৪৭ টন সার গাজীপুরে পাচার চেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) সাটুরিয়া থানায় একটি মামলা করেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোক্তার হোসেন।
এর আগে, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ৯৪৯ ব্যাগ সারভর্তি দুটি ট্রাকসহ (ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-৮৬৩১ ও ঢাকা মেট্রা-ট ১৮-১০৯৩) অভিযুক্তরা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।
অভিযুক্তরা হলেন- মাদারীপুরের কালকিনির দক্ষিণ দনার দন্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল সালাম (৪০) ও মানিকগঞ্জ সদরের কৃষ্ণপুর এলাকার বাদল মিয়া (৪৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাত ২টার দিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছ থেকে তথ্য পেয়ে সাটুরিয়া বাজার এলাকায় যান এসআই মো. মোক্তার হোসেন। সারভর্তি ট্রাক দুটি তখন বাজারেই ছিল। চালকদের কাছে জানতে চাইলে তারা “বৈধভাবে সার পরিবহন করা হচ্ছে” বলে দাবি করেন।
চালকরা জানান, বিভিন্ন ধরনের ৪৭ টন সার মানিকগঞ্জ বিএডিসি গুদাম থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মেসার্স বিষ্ণু অ্যান্ড ব্রাদার্স ও মেসার্স নারায়ন বণিক নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা পুলিশকে সার কেনার চালানও দেখান।
চালানে দেখা যায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) মানিকগঞ্জ কার্যালয় থেকে ৯ অক্টোবর একটি (মেমো নম্বর-৪৫৩৭৩) চালানে ৫ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮৫০ টাকার সার কেনা হয়েছে। বিএডিসিতে খোঁজ নিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ওই দুই প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ডিলার হলেও এই মাসে এমন কোনো চালান করা হয়নি, এমনকি কোনো সারও বিতরণ হয়নি।
লিখিত অভিযোগে পুলিশের দাবি, ট্রাক দুটি সোমবার রাতে বিএডিসির গুদাম থেকে সার বোঝাই করে গাজীপুরে পাচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে সাটুরিয়া বাজারে অপেক্ষার কারণ ছিল রাত গভীর হলে কালিয়াকৈরে নিয়ে বেশি দামে বিক্রি।
অভিযোগে বলা হয়, মানিকগঞ্জ বিএডিসিতে কর্মরত অজ্ঞাত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি সার অবৈধভাবে মজুত ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তারা মানিকগঞ্জের কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সার অন্য জেলায় বেশি দামে বিক্রি করতো। এজন্য ট্রাক দুটির চালকদের আটক করা হয়। এরপর ওই দুই চালক এবং বিএডিসির অজ্ঞাত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা (১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(১) ধারা) করা হয়।
এ বিষয়ে বিএডিসি মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, “যে ৪৭ টন সার পুলিশ জব্দ করেছে সেগুলো আমাদের এখান থেকে নেওয়া হয়নি।”
সাটুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, “জরুরি কৃষিপণ্য সার নিয়ে এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করে মানিকগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।”



