১৬ ঘণ্টা পর ঢাকার মহাখালীর খাজা টাওয়ারের আগুন পুরোপুরি নিভেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে আগুন নেভানো কার্যক্রম শেষ করে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাজাহান শিকদার সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫৮ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। পরে ৫টা ৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে তারা। প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে ধাপে ধাপে আরও ৭টি ইউনিট যোগ দেয়।
সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দেয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীও। এ ঘটনায় দুই নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সারাদেশে ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হয়।
ইন্টারনেট স্বাভাবিক হতে এক সপ্তাহ
অগ্নিকাণ্ডে বিঘ্নিত হওয়া ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে এক সপ্তাহ লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন- বিআইএসপিএ।
শুক্রবার সংগঠনটির সভাপতি এমদাদুল হক অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নিরাপত্তার জন্য ভবনটিতে এখনো কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণে সেখানে কাজ করা যাচ্ছে না। আমাদের একসেস না দিলে, ইকুইপমেন্ট বের করতে না দিলে এটা লাইভ করতে সময় লাগবে। ওই ভবন যদি আমরা সচল করতে না পারি তাহলে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি চালু হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে।”
খাজা টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় বড় ক্ষতি হয়েছে ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি) ইন্টারনেট সেবায়। মোবাইল ইন্টারনেট ও ভয়েস কলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে তা ব্রডব্যান্ডের তুলনায় কম।
দেশে বর্তমানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে অন্তত ৪০% বা প্রায় ৫০ লাখ ব্যবহারকারী বিপাকে পড়েছেন।
অপরদিকে দেশের মোট মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর (১১ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার) অন্তত ২০% বা প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট পাচ্ছেন না। ভয়েস কলেও তারা ঝামেলা পোহাচ্ছেন। ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য অ্যাপনির্ভর যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে।



