Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফেসবুকে আদম তমিজীর যত বিতর্কিত কর্মকাণ্ড

আদম তমিজীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ১১:১৯ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, সরকারের সমালোচনা ও আপত্তিকর কথাবার্তার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত একটি নাম “আদম তমিজী হক”। তিনি হক গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

আদম তমিজীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে গত বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে রাজধানী ঢাকার গুলশান এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

অভিযানের সময় নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে আত্মহত্যার হুমকি দেন আদম তমিজী। এ সময় তাকে নিজের বাসার বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে দেখা যায়। ওই লাইভে তার শ্রমিকদের ডাকতেও শোনা যায়।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারের এক প্রতিমন্ত্রী তার গাজীপুরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেন। প্রতিমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তুই একটা চোর, বাটপার, তুই আমাকে চিনস। আমি টঙ্গীতে আসতেছি। সাহস থাকলে ঠেকা।”

১৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের মক্কা থেকে ফেসবুক লাইভে এসে সরকারপ্রধান, নারী নেতৃত্ব ও আওয়ামী লীগ নিয়ে নানা বিষোদগার করেন আদম তমিজী। সেখানে তিনি বলেন, “ইংল্যান্ডে আমি সম্মান পাব। ওরা ট্যালন্টদের মূল্য দিতে জানে। আমি ইউকেতে (যুক্তরাজ্য) স্থায়ী বসতি গড়ে তুলব।”

ইংরেজিতে লেখা পোস্টগুলোতে মাঝে মধ্যে ইংরেজি হরফে বাংলা কথাও লেখা হয়। বলেন, “ইউকেতে আমি লেবার পার্টির রাজনীতি করব। আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমি ইউকের প্রধানমন্ত্রী হবো ইনশাআল্লাহ। আমি আর কখনো বাংলাদেশে আসব না।”

এর আগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ফেসবুক লাইভে আদম তমিজী হক তার ওপর জুলুম-অত্যাচারের কথা তুলে ধরেন। চতুর্থ লাইভে স্ত্রীর মুখ চেপে ধরে বলতে থাকেন, “আমি আদম তমিজী হক। আমি আওয়ামী লীগের নেতা ছিলাম। আমার দল আমার বউকে খেপিয়ে আমার সংসার ভেঙেছে। আমার বউকে আমার বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়েছে।”

এরপর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের চতুর্থ বিয়ে করার ঘোষণা দেন আদম তমিজী হক। লিখেন, “সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাসে আমার চতুর্থ স্ত্রীর জন্য বাড়ি বানাতে পারি। আগামী ডিসেম্বরেই আমি চতুর্থ বিয়ে করব। সবাইকে দাওয়াত। সৌদিতে বিয়ে করাই সর্বোত্তম।”

৩০ সেপ্টেম্বর তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর একটি আবেদনপত্র ফেসবুকে পোস্ট করেন। আবেদনে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্যপদ ও প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি চান।

পোস্টে তিনি জানান, ধর্ম এবং ব্যবসায়িক কাজে মনোযোগ দেওয়ার জন্য রাজনীতি থেকে সরে আসতে চান। তিনি বলেন, “আশা করি, প্রধানমন্ত্রী আমার বিষয়টি নিয়ে ভাববেন।”

ফেসবুক লাইভ ছাড়াও অপর এক স্ট্যাটাসে আদম  তমিজী   হক লিখেন, “আপনারা অনেকেই এত দিন আমাকে ‘চুতিয়া’ ভেবেছেন। প্রয়োজনে আজই আমি আমার ক্ষমতার আংশিক রূপ দেখাতে পারি। আমি বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের ক্ষমতাসীন মন্ত্রীকে ক্ষমতা থেকে নামাতেও পারি। সুতরাং আমার সম্পত্তির দিকে হাত বাড়ানোর আগে খুব বেশি সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।”

ফেসবুকের অন্য একটি লাইভে আদম  তমিজী  হককে বাংলাদেশি পাসপোর্টে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে দেখা যায়। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা ছিলাম। আওয়ামী লীগ আমার এক হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়ে আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসানোর চেষ্টা করছে। এ কারণে আমি এ দেশের নাগরিক থাকতে চাচ্ছি না। আমার ফ্যামিলির যদি কিছু হয়, আপনারা বুঝবেন কারা করছে।”

এরপর নিজের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় ক্ষমা চান তমিজী হক। তিনি জানান, অতিরিক্ত আবেগের বশবর্তী হয়ে তিনি এমন কাজ করেছেন। যা একদমই উচিত হয়নি। তিনি বাংলাদেশকে অনেক ভালোবাসেন।

এ বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে বাড়ি কেনার চুক্তি করে তা লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় ৪২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে  তমিজী হকের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠান জেরেমি উইলিম্যান নামের এক ব্রিটিশ নাগরিক।

নোটিশদাতার দাবি, দুবাইয়ে বাড়ি কিনবেন বলে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর সেই বাড়ির মালিকের কিস্তি পরিশোধ করার আগ পর্যন্ত ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকার অনুমুতি নেন  তমিজী । কিন্তু তিনি ওই বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে ত্যাগ করেন। পরে বাড়ির মালিক গিয়ে দেখেন তার ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে। এরপর থেকে আদম  তমিজীর কোনো হদিস পাচ্ছেন না তিনি।

নোটিশে আরও বলা হয়, “উইলিম্যান আদম  তমিজী  হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে আদম  তমিজী  প্রথমে বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দেখাতে থাকেন এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।” তাই  তমিজী হককে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪২ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে নোটিশে বলা হয় নোটিশে।

আদম তমিজী হকের বাবা ব্যারিস্টার তমিজী হক ছিলেন হক গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা। বাবার মৃত্যুর পর হক গ্রুপের নেতৃত্বে আসেন আদম। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দায়িত্ব বুঝে নেন তিনি। ২০১১ সালে ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদটি বাগিয়ে আদম তমিজী হয়ে ওঠেন এটি হক লিমিটেডের সর্বেসর্বা।

এদিকে, আদম প্রভাব খাটিয়ে একাই তাদের মৃত বাবার সম্পত্তিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন বলে অভিযোগ করেন তার বোন। এটি নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রচারিত হয়।

২০১৭ সালে “মানবিক বাংলাদেশ” নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিছু জনকল্যাণমূলক কাজ করে আদম তমিজী রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশের প্রচেষ্টা শুরু করেন। একই বছরের নভেম্বরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক মারা যান। এরপর বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। আদম তমিজীও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন।

About

Popular Links