Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নেত্রকোনা-৩

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ-দুর্নীতি মোকাবিলার উপায় কী?

ঢাকা ট্রিবিউনের ‘ইলেকশন ডিবেট’র তৃতীয় পর্বে নেত্রকোনা-৩ আসনের তিন রাজনীতিক অংশ নেন নিয়ে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:২০ পিএম

আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন রেখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ৩০ নভেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। ক্ষমতাসীন দল ও তাদের মিত্র বলে পরিচিত রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিলেও ভোটের বাইরেই রয়েছে বিএনপি। বর্তমান সরকারের পতন ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে দলটি আন্দোলন জোরদার করার কথা ভাবছে।

ঢাকা ট্রিবিউন আয়োজিত টেলিভিশন অনুষ্ঠান “ইলেকশন ডিবেট”-এর তৃতীয় পর্বে নেত্রকোনা-৩ আসনের তিন রাজনীতিক দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাদের দলীয় পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন।

আয়োজনের এই পর্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ইফতিকর উদ্দিন তালুকদার পিন্টু, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও জিয়া পরিষদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হাসান এবং নেত্রকোনা জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল হোসেন তালুকদার। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ।

শুক্রবার বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারী তিন নেতা দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়েও নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। পাশাপাশি নেত্রকোনা-৩ আসন নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কথাও জানান তারা। এছাড়া রাজনৈতিক মতভেদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

স্থানীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

বিএনপি নেতা মো. নাজমুল হাসান বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে পরিকল্পনা মতো কাজ করবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের পরে দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা সক্ষম হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপি জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ব বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করবে। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করবে। এছাড়া প্রণোদনার ব্যবস্থা করা, রিজার্ভ বাড়ানো, ডলার সংকট নিরসন করা, ব্যাংক ঋণে অনিয়ম বন্ধ করাসহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও নিত্যপণ্যের দাম নাগালের মধ্যে রাখা হবে।” মাঝারি শিল্পের বিকাশের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

নেত্রকোনার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, “এ এলাকায় প্রচুর কৃষিপণ্য ও খাদ্যশস্য রয়েছে, কিন্তু সংরক্ষণের উদ্যোগ যথেষ্ট নেই। নেত্রকোনায় খাদ্য গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজ বাড়লে পণ্য মজুত রেখে, রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে।”

অটো রাইস মিলের সংখ্যা বাড়ানো গেলে এখানে আরও উন্নয়ন সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতা ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু বলেন, “দেশের অর্থনীতি নিয়ে আমরা মোটেই চিন্তিত নই। আমরা মেগা প্রকল্পগুলো নিয়ে আশাবাদী। সেখান থেকে আমাদের রিটার্ন আসতে শুরু করেছে। আয়ের উৎস তৈরি করছি। এখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো রয়েছে।”

তিনি বলেন, “সরকার নেত্রকোনাকে কেন্দ্র করে বেশকিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল, স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। জনপ্রিয় জাম আলু সংরক্ষণের উদ্যোগও এনেওয়া হচ্ছে।”

তবে সামনের দিনে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হবে বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির নেতা মো. আবুল হোসেন তালুকদার। তিনি বলেন, “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হলে দলগুলো একসঙ্গে এই সংকট মোকাবিলা করতে পারতো।”

নেত্রকোনার উন্নয়নে তাদের দল কৃষির ওপর প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

দুর্নীতি রুখতে

বাংলাদেশের দুর্নীতি পরিস্থিতির বর্ণনা করে বিএনপি নেতা এম নাজমুল হাসান বলেন, “বিএনপি সরকার সবার আগে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে। এ জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা হবে। এ লক্ষ্যে মিডিয়া কমিশন গঠন করা হবে। সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিবিরোধী ধারা সংযোজন করা হবে। দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে।”

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। আগামী ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে সব ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন হবে। এতে বাংলাদেশ দুর্নীতি নির্মূলের দিকে এগিয়ে যাবে। এর বাইরে যাওয়ার কারও সুযোগ থাকবে না।”

জাতীয় পার্টির নেতা আবুল হোসেন দাবি করেন, “বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় দেশে দুর্নীতির বিস্তার হয়েছে। তবে, জাতীয় পার্টির দুর্নীতির রেকর্ড নেই।”

সঞ্চালকের ভূমিকায় থাকা ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ বলেন, “নেত্রকোনা-৩ আসন থেকে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির তিনজন দলীয় ও ব্যক্তিগত অবস্থান, মূল্যায়ন, রাজনৈতিক অবস্থান, বিশ্লেষণ এবং জনগণের প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আমরা আশা করি, তারা দুর্নীতি প্রতিরোধ, রাজনৈতিক ভিন্নমতকে মোকাবিলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতে তাদের অঙ্গীকারের পরিপ্রেক্ষিতে দলের অবস্থান ও মূল্যবোধ সাধারণ মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে সক্ষম হবেন। এই আলোচনার ভৈতর থেকে একটি ইতিবাচক ধারণা বেরিয়ে আসবে।”

   

About

Popular Links

x