Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টিআইবি: বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করলেই উন্নয়ন অর্থবহ হবে

সুলতানা কামাল বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের মনোভাব শূন্য সহনশীলতা থেকে ক্রমান্বয়ে ‘সহনশীল’ হয়েছে; এখন তা একপ্রকার খোলাখুলিভাবে ‘প্রশ্রয়’ দেওয়া হচ্ছে

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:৫৭ পিএম

“শত বছরের পুরোনো ঔপনিবেশিক আইন ও তার ধারাবাহিকতায় নতুন আইন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে বাক্‌স্বাধীনতা ও চিন্তার স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে। এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের পরিবেশ সরকারকেই তৈরি করতে হবে।”

আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসে শনিবার (৯ ডিসেম্বর) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।

তারা বলেন, “মত প্রকাশের অধিকারের ক্ষেত্রে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে, যা গণতন্ত্র নিশ্চিতে অন্তরায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ণের ফলে সেল্ফ সেন্সরশিপর চর্চা হচ্ছে, সাংবাদিকরা হুমকি ও হত্যার শিকার হয়েছেন।”

শনিবার সকাল ১০টার দিকে টিআইবির কার্যালয়ে “গণমাধ্যম, বাকস্বাধীনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কোঅর্ডিনেটর জাফর সাদিক।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও প্রতিষ্ঠানটির কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলমের সঞ্চালনায় প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, বৈশাখী টেলিভিশনের প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট জুলফিকার আলি মাণিক, নিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী, অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও প্রশিক্ষক মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের বার্তা প্রধান আশীষ সৈকত। টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সমালোচক মাত্রই শত্রু- অবস্থান থেকে তাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার প্রবণতার দেখা যায়। ফলে ভয়ের সংস্কৃতি আরও ঘণীভূত হচ্ছে। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ, জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে উৎকন্ঠিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। জনমুখী উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে হলে আগে চাই গণতন্ত্র বিশেষ করে বাকস্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। তাহলেই উন্নয়ন অর্থবহ হবে।”

টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো বিভিন্ন নিপীড়নমূলক আইন সাংবাদিকদের ওপরই বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের মনোভাব শূন্য সহনশীলতা থেকে ক্রমান্বয়ে ‘সহনশীল’ হয়েছে; এখন তা একপ্রকার খোলাখুলিভাবে ‘প্রশ্রয়’ দেওয়া হচ্ছে।”

আলোচনা শেষে টিআইবির দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩ জন সাংবাদিক ও একটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। 

আঞ্চলিক সংবাদপত্র বিভাগে চট্টগ্রামের “একুশে পত্রিকা ডটকম”র প্রধান প্রতিবেদক শরীফুল ইসলাম (শরীফুল রুকন); জাতীয় সংবাদপত্র বিভাগে “দৈনিক কালের কন্ঠ”র সাভার প্রতিনিধি জাহিদ হাসান শাকিল; টেলিভিশন বিভাগে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হাসান মিসবাহ; টেলিভিশন (প্রামাণ্য অনুষ্ঠান) বিভাগে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রামাণ্য অনুষ্ঠান “তালাশ” এই পুরস্কার পায়।

একইদিন বিকেল ৩টার দিকে “দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রতিযোগিতা”র পুরস্কার ঘোষণা এবং ১৫ দিনব্যাপী কার্টুন প্রদর্শনী ও ভার্চুয়াল গ্যালারির উদ্বোধন করা হয়।

About

Popular Links