Sunday, June 21, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খুলনার ৮৫% মেয়ে শিক্ষার্থী বাংলা শব্দ চিনতে পারে না

ইংরেজি শব্দ চিনতে পারে না খুলনার ৭০% শিক্ষার্থী আর ইংরেজি গল্প পড়তে পারে না ৮৪% ছেলে ও ৮২% মেয়ে

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:০০ পিএম

খুলনার পাঁচ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৯% ছেলে শিক্ষার্থী ও ৮৫% মেয়ে শিক্ষার্থী বাংলা শব্দ চিনতে পারে না। ইংরেজি শব্দ চিনতে পারে না ৭০% শিক্ষার্থী আর ইংরেজি গল্প পড়তে পারে না ৮৪% ছেলে ও ৮২% মেয়ে। ভাগ অংক করতে পারে না ৯৫% ছেলে ও ৯৭% মেয়ে শিক্ষার্থী।

সম্প্রতি “ওয়েভ ফাউন্ডেশন” পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। “স্ট্রিট চাইল্ড ইউকে” এবং “অক্সফাম আইবিআইএসর” সহযোগিতায় জরিপটি চালানো হয়।

২০২১ সালে শুরু হওয়া জরিপটি শেষ হয় ২০২২ সালে। খুলনার ৯টি উপজেলার ৩৬টি গ্রামের ৭২০টি পরিবারের ৭০০ জন শিক্ষার্থীর ওপর এই জরিপ চালানো হয়।

জরিপে দেখা গেছে, বাংলা বর্ণ পড়তে পারে না ১০% ছেলে ও ৮% মেয়ে শিক্ষার্থী; ইংরেজি বর্ণ চেনে না ১৬% ছেলে ও ১৫% মেয়ে শিক্ষার্থী। গণিতে একক চেনে না ১৪% ছেলে ও ১৩% মেয়ে শিক্ষার্থী।

জরিপের ফলাফলের সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ১০টি সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সেমিনার এবং আলোচনা সভাও করেছে তারা।

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার লিপি আমিনা জানান, শিক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের এই কর্মসূচি চলছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষার্থীদের এমন বেহাল দশা সম্পর্কে “মোবাইল ফোন আসক্তিকে” দায়ী করেছেন অভিভাবকেরা। তারা বলছেন, তাদের সন্তানরা মোবাইল ব্যবহারে বেশি ঝুঁকে থাকে। ফলে পড়ালেখায় পিছিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তন আনতে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে খুলনার খানজাহান আলী থানার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রোমানা ইয়াসমিন বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে টিকে থাকতে হলে দেশের যুব সমাজকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য নতুন শিক্ষাক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এর সুফল পেতে একটু সময় লাগবে।”

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ১০ দফা সুপারিশ

শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ১০টি সুপারিশ করেছে ওয়েভ ফাউন্ডেশন। সুপারিশগুলো হলো- শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও বরাদ্দ করা অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা; অন্তর্ভূক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা; শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা; শ্রেণিকক্ষের পাঠদান স্কুলেই সম্পন্ন করা; অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা; শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো; শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত; স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু করা এবং গুণগত শিক্ষার মান উন্নয়নে নীতি নির্ধারক, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণার জন্য ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন “মানব উন্নয়ন সূচক” আবিষ্কার করেছিলেন। এই সূচক অনুযায়ী একটি দেশের মানবসম্পদ সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন সূচকে ১৯১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৯তম।

   

About

Popular Links

x