নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সহিংসতার ঘটনা মোটা দাগে খুব বেশি ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ইসি কার্যালয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপিবিহীন নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকার সঙ্গে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের পদে থাকা “স্বতন্ত্র” প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। নিজেদের শক্তি আর জনপ্রিয়তা দেখানোর মঞ্চ হিসেবে তৈরি হয়েছে ভোটের মাঠ।
গত ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর ভোটের প্রচারণায় নামেন প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে প্রায় ২৫টির বেশি আসনে প্রতিপক্ষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচারে বাধা দেওয়া, মারধর, হামলা, সংঘর্ষ, সহিংসতার তথ্য নানা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া পিরোজপুর ও মাদারীপুরে দুজনের মৃত্যু খবরও পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সিইসি এমন মন্তব্য করলেন।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, “নির্বাচনি মাঠে আমরা ব্যাপক ঘুরে বেড়িয়েছি। প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসনের সঙ্গে সভা করেছি। তাদের কাছ থেকে খুব বেশি অভিযোগ পাইনি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সহিংসতা, কিছুকিছু ক্ষেত্রে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পোস্টার ছেঁড়া হয়েছে। কিন্তু মোটা দাগে খুব বেশি ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হয় না।”
সংবাদমাধ্যমের তথ্য ও রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকারদের মতে, এবার ভোটের ময়দানে প্রায় দেড়শোটির বেশি আসনে “হাড্ডাহাড্ডি” লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটের মাঠ সামলাতে আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে মাঠপর্যায়ে কাজ করবে সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনী। তারা রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকায় নির্বাহী হাকিমের সঙ্গে মাঠে কাজ করবেন।
সহিংসতা প্রতিরোধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। সিইসি বলেন, “সহিংসতা একেবারে হয়নি, সে কথা বলছি না। আশা করি এটা গ্রাজুয়েলি আর কয়েকটা দিন আছে, আমরা আমাদের আবেদন রাখছি, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তারা যেন এটাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন।”
সিইসি আরও বলেন, “একটা সময় প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে। তারপর ভোটের দিন আসবে। ভোটের দিনটা নিরবে এবং আইন-কানুন মেনে যদি ওটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলেই ভোটাধিকার প্রয়োগটা আমরা জোর দিচ্ছি। সেখানে পোলিং এজেন্টরা থাকবে, পোলিং এজেন্টদের ভারসাম্যরা রক্ষা করতে হবে কেন্দ্রের ভেতরে। সেখানে কোনো আনঅথরাইজ পারসন যেন প্রবেশ করতে না পারে এবং বাহির থেকে বা ভেতর থেকে গণমাধ্যম যদি কোনো অনিয়মের ছবি ক্যাপচার করে এটা যদি সম্প্রচার করতে পারে, আমরা সেটাকে স্বাগত জানাব।”
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, “এভাবে একটা দৃশ্যমানতার মধ্য দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাটা যদি ফুটে ওঠে, তাহলে এর ক্রেডিবিলিটি বেড়ে যাবে এবং রং পারসেপশন হওয়ার সুযোগটা কম হবে। আমরা আমরা আশাবাদী।”
আগামী ৭ জানুয়ারি হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। ভোটের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে ১৫ নভেম্বরের পর। ওইদিন দ্বাদশ সংসদের তফসিল ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। আগামী ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন তারা।
বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বর্জনের ভোটে মাঠে রয়েছে ২৭টি দল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এখন পর্যন্ত ২৭টি দলের ১,৫১৩ জন ও স্বতন্ত্র ৩৮২ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন। এই ১,৮৯৫ জন প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। আদালতের আদেশে আরও কিছু প্রার্থী যুক্ত হতে পারেন।



