ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গত ১৯ নভেম্বর একদিনের ক্রিকেটের ১৩তম বিশ্বকাপ আসরের ফাইনালে স্বাগতিকদের হারিয়ে শিরোপো জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। আর এই ম্যাচটিই ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা ম্যাচের রেকর্ড গড়েছে।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) নিজেদের ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।
আইসিসি জানায়, টিভি ও অন্যান্য সম্প্রচার মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখা হয়েছে ৮ হাজার ৭৬০ কোটি মিনিট।
টুর্নামেন্টের মূল সম্প্রচার অংশীদার ডিজনি স্টারের স্ট্রিমিংয়েও ম্যাচটি সর্বোচ্চ দর্শকের রেকর্ড গড়েছে। সেখানে একসঙ্গে খেলাটিতে চোখ রেখেছেন ৫ কোটি ৯০ লাখ দর্শক।
সব মাধ্যম মিলিয়ে পুরো বিশ্বকাপ প্রথমবার ১ লাখ কোটি মিনিট দেখার মাইলফলক ছুঁয়েছে। এর মধ্যে শুধু ডিজনি স্টারেই টুর্নামেন্ট দেখা হয়েছে ৪২ হাজার ২০০ কোটি মিনিট।
আইসিসির তথ্য বলছে, ২০১৯ বিশ্বকাপের তুলনায় ২০২৩ বিশ্বকাপ ১৭% বেশি দেখা হয়েছে, যা ২০১১ আসরের চেয়ে ৩৮% বেশি। শুধু ফাইনালের হিসেব করলে ২০১১-এর চেয়ে ৪৬% বেশি দেখা হয়েছে এবারেরটি। এবারের ফাইনালের আগে ২০১১ ফাইনালই ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ ছিল।
ভারতের বাইরেও টিভি দর্শকসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে ৫৮৬ কোটি মিনিট সরাসরি বিশ্বকাপ দেখা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে ২৭৯ কোটি মিনিট। পাকিস্তান থেকে ২৩ হাজার ৭২০ কোটি মিনিট বিশ্বকাপ দেখা হয়েছে।
আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরাট কোহলির ৫০তম ওয়ানডে শতকের মুহূর্ত দেখা হয়েছে সবচেয়ে বেশি ৭ কোটি ৮০ লাখ বার। এরপরই আছে লিগ পর্বে আফগানিস্তান-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ব্যথায় কাতর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের উঠে দাঁড়ানোর মুহূর্তটি।
২০২৩ বিশ্বকাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্টের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে আইসিসির অংশীদারত্ব ছিল। মেটার দুই মাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে বিশ্বকাপের ভিডিও দেখা হয়েছে ১ হাজার ৬৩০ কোটি বার।
ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে খেলা দেখার ক্ষেত্রেও রেকর্ড গড়েছে এবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ৯ কোটি ৭৫ লাখ একক দর্শক (ইউনিক ভিজিটর) ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহার করে এবারের বিশ্বকাপ দেখেছেন, যা ২০১৯ আসরের তুলনায় ২৯% বেশি। এছাড়া ওয়েবসাইটের পেজ ভিউ বেড়ে হয়েছে ৭০ কোটি ৪ লাখ, যা ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চেয়ে ৯৬% বেশি।



