দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য না হলে বাংলাদেশের আর্থিক, সামাজিক ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছু থমকে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনিছুর রহমান। তিনি বলেছেন,, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ না হলে বাংলাদেশের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “শুধু আমাদের দৃষ্টিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করলে হবে না। আমাদের দিকে সমগ্র বিশ্ব তাকিয়ে আছে। এই নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর এবং গ্রহণযোগ্য না করতে পারলে আমাদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত।”
তিনি বলেন, “গত ২৮ নভেম্বর থেকে মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আছেন। তারা আচরণবিধি প্রতিপালনে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। এবারই প্রথম প্রতিটা আসনে সার্বক্ষণিক জুডিশিয়াল অফিসার দিয়ে ইলেকট্রোরাল এনকোয়ারি করা হয়েছে। উভয়ই মাঠে খুব ভালো কাজ করেছেন।”
দেশে নিবন্ধিত ৪৪ দলের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ ভোটে আছে ২৭টি রাজনৈতিক দল। অন্যদিকে, বিএনপিসহ ১৫টি দল ভোট বর্জন করেছে। আগামী ৭ জানুয়ারি ২৯৯টি আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, “সবার সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ করতে হবে। বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হবে এবং জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হবে।”
সিইসি বলেন, “সাধারণ নির্বাচন খুব উৎসবমুখর পরিবেশে হয়। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটা অংশ নির্বাচন বর্জন করছে। ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করা হয়েছে, সহিংসতা হয়েছে। সেটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে কিছু বিতর্ক হয়েছে, সার্বিকভাবে অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না।“
তিনি বলেন, “নির্বাচন আমাদের দ্বারপ্রান্তে। কুসুমাস্তীর্ণ পথে আমরা এগোচ্ছি না। কিছুদিন ধরে বিতর্ক চলছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে, নির্বাচন প্রশ্নে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে, সহিংসতাও হয়েছে। আমাদের বেশি মনোযোগী হতে হবে আকেরটি কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা বাকবিতণ্ডা আছে।”
তিনি আরও বলেন, “যেকোনো মূল্যে আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে একটা সরকার থাকা অবস্থায় নির্বাচন কমিশন ভালো নির্বাচনের আয়োজন করতে পারে। ইসিকে বলা হয় ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডি। সরকার বাধ্য ইসিকে সহায়তা করতে। সরকারের সহায়তা ছাড়া আমরাও নির্বাচন করতে পারি না। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ভোটের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে।”
নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম। এতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী, ইটিআই মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামানসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



