Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে ঢাকায় বিমান অবতরণ-উড্ডয়ন ব্যাহত

কুয়াশার কারণে গত ১-১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা বিমানবন্দরে ৪০টির বেশি বিমান বিপত্তির মুখে পড়ে

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:৩২ পিএম

দেশের বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকীকরণে নেওয়া হচ্ছে নানা আকর্ষণীয় প্রকল্প। প্রতি বছরই আনা হচ্ছে নানা সরঞ্জাম। কিন্তু শীতের সময় বিমান চলাচলে সহায়ক প্রযুক্তি আনতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে ঘন কুয়াশায় ব্যহত হচ্ছে উড্ডয়ন-অবতরণ।

প্রতি বছর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (ক্যাব) হার মানতে হচ্ছে কুয়াশার কাছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) ঘন কুয়াশার কারণে বিকেল ৪টার দিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটের প্রায় একই সময় রানওয়েতে আসে এয়ার রাং এভিয়েশনের একটি ফ্লাইট।

একই দিন ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণে ব্যর্থ হয়ে তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যথাক্রমে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ভারতের কলকাতা বিমানবন্দর ও মুম্বাইয়ের মহারাজা বিমানবন্দরে নামে।

আন্তর্জাতিক একটি ফ্লাইট রাডার পোর্টালের তথ্য বলছে, রিয়াদ থেকে আসা সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। তবে ঘন কুয়াশার কারণে অবতরণে ব্যর্থ হয়ে সেটি ভারতে চলে যায় ও মুম্বাইয়ের মহারাজা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। 

কুয়াশার কারণে গত ১-১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা বিমানবন্দরে অন্তত ৪০টির বেশি বিমান বিপত্তির মুখে পড়ে। কর্তৃপক্ষ বেশিরভাগ ফ্লাইটের সময়সূচি ওলট-পালট করে। প্রতিদিনই রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখছে।

ক্যাবের তথ্য বলছে, ঢাকা বিমানবন্দর থেকে যথাক্রমে ৪, ৫, ৬ ও ১১ জানুয়ারি ১৩, ৪, ১ ও একটি ফ্লাইট অবতরণ করাতে ব্যর্থ হয়ে অন্য বিমানবন্দরে পাঠায়। এছাড়া ১৪-১৫ জানুয়ারি একটি, ১৭ জানুয়ারি ১১টি আর ১৮ জানুয়ারি ১২টি ফ্লাইট ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

এখন যে অবস্থা

ক্যাব সূত্র জানায়, ঢাকা বিমানবন্দরে স্থাপিত আইএলএস ক্যাটাগরি-১ এর মাধ্যমে ৮০০ মিটার বা তার বেশি দূরের রানওয়ে দেখা যায়। এখন আ্যাডভান্সড টেকনোলজি আইএলএস ক্যাটাগরি-২ স্থাপনের কাজ চলছে।

নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির দৃশ্যমানতা ৫০০ মিটারের কম হলেও পাইলট বিমান অবতরণ করাতে পারবেন। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৫০ লাখ ডলারে এটি কেনা হয়েছে।

উন্নত প্রযুক্তি স্থাপনের জন্য ১০ জানুয়ারি পুরনো প্রযুক্তিটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে পুরো পরিস্থিতিই সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত।

আইএলএস ক্যাটেগরি-৩ প্রযুক্তিতে ১০০ মিটারের দৃশ্যমানতাতেও পাইলটরা অবতরণে বিঘ্নের সম্মুখীন হন না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইএলএস ক্যাটাগরি-২ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। আর ভারতের কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইএলএস ক্যাটাগরি-৩ ব্যবহার করা হচ্ছে। 

দেশি-বিদেশি বিমান সংশ্লিষ্টরা ক্যাবের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, আইএলএস ক্যাটাগরি-২ স্থাপন ভিত্তিহীন। যেখানে এর পরের প্রযুক্তি চলে এসেছে।

তবে বিমান কর্তৃপক্ষের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, শীতে ঘন কুয়াশার কারণে ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণে ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রযুক্তিগত ব্যাপক উন্নয়নে এটি উপযুক্ত সময় নয়।

এদিকে বিমান অবতরণ করাতে না পারায় যাত্রীদের ভোগান্তি ছাড়াও জ্বালানি খরচ, অবতরণ ব্যয়, পার্কিংয়ে বহু অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলোকে।

ক্যাব জানায়, আইএলএস ক্যাটাগরি-২ স্থাপনের কাজ চলছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরো কাজ শেষ হবে। 

এভিয়েশন এপেক্স বডি জানায়, প্রতি বছর নভেম্বরে শীতকালীন সময়সূচি শুরু হয়। রাত ২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত কুয়াশার ঘনত্ব বেশি থাকায় দৃশ্যমানতা কমে যায়। ফলে ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতি বছর শীতকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ঢাকা বিমানবন্দরকে আইএলএস লেভেল-২ ঘোষণা করে। যার অর্থ এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ফ্লাইট নিয়মিতভাবে সময়মতো পরিচালনা করতে পারে না।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গে বৈঠকে বসে। কর্তৃপক্ষ তাদের ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণের জন্য পরামর্শ দেয়।

শীতকালীন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর শুরু হয়। সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে, ক্যাব একই মাসে এনওটিএএমএস (এয়ারম্যান) জারি করে।

আইএলএস পদ্ধতি স্থাপনের পর সেটি যাচাই করা হবে। এরপর ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) সেটি যাচাই করে সেটির সনদ দেবে।

ক্যাব জানায়, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে একই প্রযুক্তি স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

About

Popular Links