Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাকেরগঞ্জে কারখানা নদী: বর্ষায় কষ্ট, শীতেও দুর্ভোগ

  • কয়েক দশক ধরে একটি সেতুর জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন বাসিন্দারা
  • ট্রলারের জন্য ঘাটে অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:১৭ পিএম

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় কারখানা নদী পারাপারে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা। শীতকালে নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ট্রলার ঘাটে যেতে পারছে না। ফলে নৌকা বা ট্রলারে উঠতে পাড়ি দিতে হচ্ছে কাদায় ভরা অন্তত এক কিলোমিটার পথ।

আবার বর্ষাকালে নদীর পানির স্তর  বাড়লে উপকূল থেকে ট্রলারে উঠতেও বেগ পোহাতে হয় তাদের। এ নিয়ে বিপাকে রয়েছেন উপজেলার ফরিদপুর ও দুর্গাপাশা ইউনিয়নের প্রায় ৫০ গ্রামের বাসিন্দারা।

বাকেরগঞ্জের কোবাই, দুধল, দাড়িয়াল ও ফরিদপুরের চারটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা কোবাই ইউনিয়নের ডিসি রোড হয়ে কারখানা নদী পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন।

পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দারাও এই পথ ব্যবহার করে বাকেরগঞ্জ হয়ে বরিশাল শহরে যাতায়াত করেন। সব মিলিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের রুট এটি।

ভাটার সময় ঘাটে মোটরসাইকেলের অপেক্ষা

সীমিত সংখ্যক ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের কারণে করখানা নদীর ডিসি ঘাটে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। শীতকালে নদীর খালগুলো শুকিয়ে যায়। ফলে ট্রলারগুলো ঘাটে আসতে পারে না। ভাটার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

ওমর ফারুক নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “নদীর তীরে এক কিলোমিটার বালিয়াড়ি রয়েছে। জোয়ার-ভাটার সময় এই বালিয়াড়ির কারণে ছোট ছোট চ্যানেল দিয়ে ট্রলার তীরে পৌঁছাতে পারে। পানি কম থাকলে ট্রলার ঘাটে আসতে পারে না। ফলে ট্রলারে চড়তে কাদা বালির ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হয় মানুষকে। যাদের মোটরসাইকেল আছে তাদের ভাটার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।”

এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই কাজের জন্য আমার মোটরসাইকেল নিয়ে এই পথে যেতে হয়। ভাটার সময় নৌকা তীরে পৌঁছাতে পারে না। তাই আমাকে মোটরসাইকেল নৌকায় তুলতে জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আমরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।”

এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে কয়েক দশক ধরে সেতুর দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তবে সেতু নির্মাণে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় হতাশ তারা।

এক বাসিন্দা বলেন, “কারখানা খুবই বিপজ্জনক। এখানে আমাদের কষ্টের শেষ নেই। আমরা একটি সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি। অথবা যদি সম্ভব না হয়, অন্তত আমাদের একটি ফেরি দিন।”

স্থানীয়দের অভিযগো, “আমরা ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, মেয়র ও সংসদ সদস্যের কাছে আমাদের দাবি তুলে ধরেছি। কিন্তু আমাদের দুর্ভোগ কমাতে কেউ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি।”

এ বিষয়ে কাবাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বাদল বলেন, “কারখানা নদীর ওপর একটি সেতু খুবই প্রয়োজন। এটি বাকেরগঞ্জ ও বাউফলের বাসিন্দাদের নিরাপদ ও ভোগান্তিমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করবে। তবে সেতু না থাকায় অন্তত ৫০টি গ্রামের মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।”

এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া বলেন, “কারখানা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের চেষ্টা চলছে। আমাদের কাছে অতীতে সেতুর প্রস্তাব ছিল। এখনও প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

   

About

Popular Links

x