২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭২ বছর পূর্ণ হলো। ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে এবং বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। এদিন রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে একুশের কর্মসূচি শুরু হয়।
একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে বিচারপতিরা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান ভাষাশহিদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে শহিদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় জনসাধারণের জন্য। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন। যা এখনো চলছে। ভাষা শহিদদের প্রতি শহিদ মিনারে এসেছেন বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ। এসেছেন শিশু থেকে অশীতিপর। বাংলাদেশিদের পাশাপাশি শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেনে বিভিন্ন দেশের মানুষ। তাদের শ্রদ্ধার ফুলে ভরে গেছে শহিদ মিনারের বেদি। সারাদেশেও শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন মানুষ।
১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আত্মত্যাগ করেন ভাষাশহিদরা। দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এছাড়া ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিলে সারাবিশ্বে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে পালিত হচ্ছে দিনটি।
আজ সরকারি ছুটির দিন। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।



