ঢাকার বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুন লাগার পর বিভিন্ন ভবনে রেস্টুরেন্ট তৈরি নিয়ে উদ্বেগ জানান বিশেষজ্ঞরা। এরপর থেকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি খুঁজতে অভিযানে নামে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ। এসব অভিযানে ৪০টির মতো রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) দুপুরে ঢাকার বিজয়নগরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান হাসান।
তিনি বলেন, “একাধিক সংস্থা থেকে রেস্টুরেন্টগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী, যেমন- আনসার, পুলিশ ও এলিট ফোর্স র্যাবও তাদের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে নিরাপদ খাদ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট। এটা হয়তো একটু বাড়াবাড়ি। কারণ নিরাপদ খাদ্য বাস্তবায়নে সরকার একটি কর্তৃপক্ষই গঠন করেছে। তাদের কাজটি করতে দিতে হবে।”
ইমরান হাসান বলেন, “গ্রিন কোজি কটেজের অগ্নিকাণ্ডের দায় কেউ এড়াতে পারেন না। পুরো ভবনটাই ছিল অনিয়মে ভরা। আর এই ভবনটির অনুমোদন দিয়েছে রাজউক। রেস্টুরেন্ট সেক্টরটি তদারকি করতে নিয়োজিত আছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন, কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক প্রশাসনসহ আরও অনেক অধিদপ্তর ও সংস্থা। ৪৬ জনের প্রাণহানির পর রাজউক ও সিভিল ডিফেন্সের টনক নড়েছে। এরপর থেকে ঢাকার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অভিযানে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে স্টাফদের, জব্দ করা হচ্ছে গ্যাসের সিলিন্ডার। এগুলো কোনো সমাধান নয়।”
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আলোচনা করে এমন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে যে, রেস্টুরেন্ট করার আগেই যথাযথ কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে রেস্টুরেন্টের অনুমোদন দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, “তিতাস গ্যাসের পর্যাপ্ততা নেই। আবার সংযোগ থাকলেও লাইনে গ্যাস থাকে না। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হয়। লাকড়ি ব্যবহার করলে কিচেনসহ পুরো রেস্টুরেন্ট কালো হয়ে যায়, পরিবেশ ঠিক থাকে না।”
উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাচ্ছি। ভবিষ্যতের জন্য একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করতে হবে, যাতে ব্যাঙের ছাতার মতো রেস্টুরেন্ট গজিয়ে উঠতে না পারে।”
আসন্ন রমজান মাসে পবিত্রতা বজায় রেখে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুন লাগে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যারা শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ভবনটি থেকে কমপক্ষে ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে।
এ অগ্নিকাণ্ডের পর পরই ঢাকার বিভিন্ন ভবনে রেস্টুরেন্ট তৈরি নিয়ে উদ্বেগ জানান বিশেষজ্ঞরা। এরপর থেকে অভিযান শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ভবনের অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি।



বেইলি রোডের ‘সুলতানস ডাইন’ সিলগালা
অভিযানের খবরে বন্ধ খিলগাঁওয়ের বেশিরভাগ রেস্টুরেন্ট
কামরাঙ্গীরচরে হোটেল-রেস্টুরেন্টে পুলিশের অভিযান