ভারত মহাসাগরে জলদস্যুর কবলে পড়া জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ’র জিম্মি নাবিকদের সঙ্গে খাবার খাচ্ছেন জলদস্যুরা। আর তাদের জন্য খাবার রান্না করতে হচ্ছে জিম্মিদেরই। জাহাজের চিফ কুক আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে এ রান্নার কাজ করছেন। আর এ কারণে জাহাজে মজুত খাবার দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশি নাবিকরা।
জিম্মি জাহাজে থাকা নাবিকদের পাঠানো অডিও বার্তায় এসব তথ্য জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের চিফ অফিসার আতিক উল্লাহ খান পরিবারের সদস্যদের কাছে একটি অডিও বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি বলেন, “জলদস্যুরাসহ আমাদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করছে। আমাদের পানি ব্যবহার করছে। আমাদের এ খাবার ১০-১৫ দিন বড়জোর যেতে পারে। ১০-১৫ দিন পর আমাদের খাবার যখন শেষ হয়ে যাবে তখন খুব কষ্টে পড়ে যাব। এটাই হলো আমাদের পরিস্থিতি।”
এর আগে জাহাজটির দেশে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় তিনি জানান, জিম্মি হওয়ার দিন নাবিকদের কাছে ২০-২৫ দিনের খাবার মজুত ছিল। পানি ছিল ২০০ টনের মতো। তবে, এখন তাদের সঙ্গে প্রতি বেলায় এখন ৩০ জনের মতো জলদস্যু নাবিকদের সঙ্গে খাবার খাচ্ছেন। এ কারণে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে খাবার-পানি।
এদিকে, শুক্রবার জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ’র অবস্থান পরিবর্তন করেছে। আগে নোঙর করা স্থান থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জলদস্যুরা তাদের এলাকায় নিয়ে নোঙর করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আতিক উল্লাহ খানের ছোট ভাই মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ খান আসিফ অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বড় ভাই ফোন করেছেন। তিনি বলেছেন, জাহাজসহ তাদেরকে নতুন একটি জায়গায় নিয়ে গেছে। তারা ভালো আছেন জানিয়েছেন। মুক্তিপণের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো কথায় বলছেন না দস্যুরা। তবে চিন্তিত আছেন খাবার-পানি নিয়ে। তাদের কাছে যেসব খাবার-পানি মজুত আছে তা থেকে দস্যুরাও খাচ্ছেন। এ কারণে দ্রুত খাবার-পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে তিনি চিন্তিত।”
আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে ১২ মার্চ দুপুরে ভারত মহাসাগরে জলদস্যুর কবলে পড়ে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজএম ভি আবদুল্লাহ। জাহাজটি চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন।
নাবিকসহ জাহাজটি উদ্ধারে মালিকপক্ষের পাশাপাশি সরকারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে ২০১০ সালে একই মালিকের জাহাজ এমভি জাহাজ মনি সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। মালিক পক্ষের উদ্যোগে দীর্ঘ তিন মাস পর ২৬ নাবিকসহ জাহাজটি মুক্ত করা হয়।



