Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘নদী সুরক্ষায় প্রকল্প থাকলেও জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই’

‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আজকে বাংলাদেশ ৫৪ বছর পার করছে, কিন্তু আমরা আমাদের পরিবেশ রক্ষায় তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারিনি’

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০০ পিএম

নদী সুরক্ষায় অনেক প্রকল্প থাকলেও এতে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই। স্বাধীনতার এত বছর পরও নদী রক্ষায় সরকার জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তাছাড়া নদী দখল যারা করছে, তারা সকলেই সরকারের কাঁধে ভর করে এ কাজ করছে।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে “প্রস্তাবিত নাগরিক সুপারিশ: নদী সুরক্ষায় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের গুরুত্ব” শিরোনামে এক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউএসএইড এবং কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের (সিপিআই) সহযোগিতায় ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এ নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আজকে বাংলাদেশ ৫৪ বছর পার করছে, কিন্তু আমরা আমাদের পরিবেশ রক্ষায় তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারিনি। ঢাকায় আগে যে সকল খাল ছিল তা আর নেই। ফলে এখন একটুখানি বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। আজকে সিটি কর্পোরেশন উদ্ধারের চেষ্টা করছে। নদী দখল যারা করছে তারা সকলেই সরকারের কাঁধে ভর করে এ কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “আগে আমরা বজরায় চড়ে মিরপুরে পিকনিকে যেতাম। কিন্তু এখন তা আর সম্ভব নয়। কারণ বুড়িগঙ্গা ‍আগে অনেক বড় একটি নদী ছিল যা বর্তমানে সরুখাল হয়ে এসেছে।”

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, “আজকের এই সংলাপ অনুষ্ঠানে আমরা জানতে পারলাম, ঢাকা শহর এবং তার আশপাশের নদী সুরক্ষায় ৫০টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পগুলোতে জন-সম্পৃক্ততা ও জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখতে চাই আমরা।”

খুলনার সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার বলেন, “আমাদের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শুরু করে ব্যক্তি জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। আমরা কিছু জনপ্রতিনিধি রয়েছি, যারা বিভিন্ন সময় সুপারিশের মাধ্যমে অযোগ্যদের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার সকল জায়গায় কাজ করতে সচেষ্ট রয়েছে। ইলিশ সংরক্ষণসহ পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে।”

ইউএসএইড বাংলাদেশের ডিআরজি অফিস ডিরেক্টর অ্যালেনা ট্যানসি বলেন, “ঢাকার চারপাশের নদীগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নদী পাড়ের ফ্যাক্টরিগুলো এ সকল নদী দূষণ করছে। সুশীল সমাজ ও জনগণ সকলেই একসঙ্গে কাজ করছে, যা ঢাকার দূষণ ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ বাংলাদেশের পাশে আছে সবসময়।”

কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি কেটি ক্রোক বলেন, “বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিবেশে সমস্যাগুলো এ দেশের নাগরিকদেরই সমাধানের প্রচেষ্টা করতে হবে। তবে আমরা আমাদের জায়গা থেকে ন্যায্য সহযোগিতা সবসময় অব্যাহত রাখবো, যাতে করে আপনারা আপনাদের সুন্দর প্রচেষ্টায় আমরা অংশীদার হতে পারি।”

সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএসএস) নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান বলেন, “আমাদের মেনিফেস্টো যদি দেখি দেখবো যে, ১৯৭০ এর মেনিফেস্টোসহ পরবর্তীতে সব মেনিফেস্টোতে পরিবেশ রক্ষার সদিচ্ছার প্রতিফলন দেখেছি। প্রতিদিন প্রায় ৫,৮০০ টন সলিড ওয়েস্ট আমাদের ডাম্পিং করার ক্যাপাসিটি আছে। যে সোর্স থেকে এ দূষণ হচ্ছে সেসব জায়গায় আমাদের নজর দিতে হবে। ইটিপি ও সেন্ট্রাল ইটিপি নির্মাণ করতে হবে।”

About

Popular Links