আনারসের পাতার আঁশ থেকে পাইনাপেল সিল্ক জামদানি শাড়ি উদ্ভাবন এক নতুন আশার আলো জাগাবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘‘এ শাড়ি আমাদের দেশের চহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’’
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরের দিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভার চর বেউথা এলাকায় বেসরকারি সংস্থা ‘‘আলাপ’’ এর তৈরি পাইনাপেল সিল্ক উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শনের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘‘আলাপ’ সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে আনারসের পাতা থেকে সুতা তৈরি করেছে। আর সে সুতা থেকে সিল্ক কাপড়সহ নানা সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। এ শিল্পটি দেশের সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।’’
শিল্পটির প্রসারে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সালেহ মো. মোস্তফা কামাল, জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) শুক্লা সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন, আলাপ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাসুদা আক্তারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে আলাপ সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মাসুদা ইসলাম বলেন, ‘‘২০০৭ সাল থেকে মধুপুরে বিষমুক্ত আনারস উৎপাদন এবং আনারস ফল থেকে বিভিন্ন রকমের খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনে মধুপুরবাসীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করি। সেই সূত্রেই ২০০৯ সালে বুঝতে পারি, আনারসের পাতার মধ্যে এক ধরণের আঁশ আছে। যা অসম্ভব সুন্দর, মজবুত। সেই সময় থেকেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে এই আঁশকে কাজে লাগানোর জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা ছিল।’’
তিনি বলেন, ‘‘আনারসের আঁশ থেকে বিভিন্ন হস্তশিল্প ও আনারসের সিল্ক কাপড় এবং জামদানি উৎপাদনে সক্ষম হয়েছি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এক সময় আনারসের পাতা চাষীদের জন্য একটা বোঝা ছিল। এখন সেই ফেলে দেওয়া পাতা তাদের জন্য বয়ে আনবে সোনালী দিন।’’
এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘‘আনারস পাতার আঁশ থেকে সুতা তৈরি ও সেই সুতার মাধ্যমে পাইনাত্রিপোল সিদ্ধ ও পাইনাত্রিপোল সিল্ক জামদানী আমাদের দেশের চহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।’’



