Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ফরিদপুরের ১৭ গ্রাম

  • বিদ্যুৎ নেই অনেক এলাকায়
  • গাছ ভেঙে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত
আপডেট : ১০ মে ২০২৪, ১০:৩৬ এএম

কালবৈশাখী ঝড়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ১৭টি গ্রামে শতাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও শত শত গাছপালা নষ্ট হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়িঘরের বিদ্যুতের মিটার ও চালের টিন উড়ে গেছে ঝড়ে। রাস্তায় গাছপালা পড়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালবৈশাখীর প্রভাবে জেলার বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের সহস্রাইল, ভুলবাড়িয়া, মাইটকুমরা, শেখপুর, ছত্তরকান্দা, রূপাপাত ইউনিয়নের কুমরাইল, কাটাগড়, কলিমাঝি, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া, জয়পাশা, তামারহাজি এবং আলফাডাঙ্গার টাবনি, হেলেঞ্চা, পাড়াগ্রাম, বানা, বারাংকুলা, চরডাঙ্গা এলাকা ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতির কবলে পড়েছে।

ঝড় থেমে গেলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গাছপালা সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঝড়ের পর থেকে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলাসহ অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
 
সহস্রাইল গ্রামের তারেক আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি বলেন, “বাড়ি থেকে জরুরি ওষুধ কিনতে বাজারে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে বাতাস আর মেঘের গর্জন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়। বাতাসে সহস্রাইল স্কুল রোডে জামালের বাড়ির সামনে আমগাছ, রেইন্ট্রি গাছ ভেঙে পড়ে। একটু হলেই আমার মাথার ওপরই গাছ পড়ত। অল্পের জন্য বেঁচে গেছি। প্রায় ১৫ মিনিটের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিভিন্ন প্রজাতির পাঁচ শতাধিক গাছপালা। ঝড়ে অনেক ঘরবাড়িরও ক্ষতি হয়েছে।”

আলফাডাঙ্গার বুড়াইচ গ্রামের জোহরা বেগম বলেন, “হঠাৎ করে বৃষ্টি ও প্রচণ্ড বাতাসে গাছপালা ভেঙে পড়ে। গাছ পড়ে ঘর ভেঙে গেছে। টিনের আঘাতে হাত কেটে গেছে।”

আলফাডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার ওবায়দুর রহমান বলেন, “সন্ধ্যার কালবৈশাখীর ঝড়ে বোয়ালমারীর সহস্রাইল বাজার থেকে আলফাডাঙ্গা সড়কে বড় কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে আমরা গাছপালা অপসরণ করেছি। এখনো কাজ চলছে। ওই এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। জানতে পেরেছি অনেক জায়গায় ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে জানাতে পারব।”

বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইস্রাফিল মোল্যা বলেন, “সহস্রাইল বাজারের প্রায় ১০টি ঘর উড়িয়ে নিয়ে গেছে। বাজারের অনেক দোকানে ব্যবসায়ীদের মালামাল রাখা ছিল। শেখর ও রূপাপাত ইউনিয়নে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।”
 
একই উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, “রুপাপাত ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে কালবৈশাখীর আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ের পর থেকে বিদ্যুত সংযোগ বন্ধ।”

ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোর্শেদুর রহিম বলেন, “ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমাদের মেইন লাইন কানাইপুরে ক্ষয়ক্ষতির কারণে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া বোয়ালমারীর জয়পাশা, ময়েনদিয়া এলাকায় বিদ্যুতের পিলারও পড়ে গেছে। আলফাডাঙ্গারও কয়েকটি জায়গায় বেশ ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের কর্মীরা মাঠে কাজ করছে। গাছপালা পড়ে বিদ্যুতের লাইনের ক্ষতি হওয়ায় অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে দেরি হতে পারে।” 

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, “আমরা এখনো ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য পাইনি। তথ্য সংগ্রহে কাজ করছি।”

ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনর্বাসন ও আর্থিক সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন ডিসি।

   

About

Popular Links

x