Tuesday, June 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঘূর্ণিঝড় রিমাল: কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা, বাস টিকেটের সঙ্কট

  • সাগরে নামতে নিষেধ করা হয়েছে পর্যটকদের
  • কক্সবাজার থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে বিমান চলাচল
  • জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা
আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ০৩:৩৯ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে বিক্ষুব্ধ সাগর। উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে উপকূলে। দুপুরে জোয়ারে অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজারে পর্যটকদের সাগরে না নামতে নিষেধ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক পর্যটক কক্সবাজার ছেড়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, ঘূর্ণিঝড় রিমাল উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এটি কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিপশ্চিমে অবস্থান করছে এবং ১২০ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বার্তায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৯ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে হবে।

শনিবার বিকেলের পর থেকে কক্সবাজারে রিমালের প্রভাব শুরু হয়েছে। থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর দমকা হাওয়া বইছে। তবে কোথাও ঝড়ো হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। উপকূলের অনেক বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, “ঘূর্ণিঝড় রিমাল কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়ের বেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারি বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজারের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। সবাইকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।”

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে কক্সবাজার থেকে বিমান ওঠানামা বন্ধ ঘোষণা করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মর্তুজা বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চালু করা হবে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে হঠাৎ করে পর্যটকরা ফিরে আসতে শুরু করায় কক্সবাজারে দেখা দিয়েছে টিকেট সংকট। কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না বাসের টিকেট।

কক্সবাজারের কলাতলী ডলফিন মোড়ের কাউন্টার মালিক শফিউল্লাহ বলেন, “ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে পর্যটকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা কক্সবাজার ছেড়ে যাচ্ছেন। দূরপাল্লার বেশিরভাগ বাস চলে গেছে। আজ (রবিবার) কোনো টিকেট নেই। সব বুকিং রয়েছে। বিমান চলাচল বন্ধের ঘোষণায় টিকেটের চাহিদা আরও বেড়েছে।”

এদিকে, কক্সবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে অনুরোধ জানাচ্ছে প্রশাসন। কক্সবাজারে ৬৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মহেশখালীতে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া শুরু করেছে মানুষ।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সিপিপির ৮,৬০০ এবং রেডক্রিসেন্টের ২,২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৬৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ। এছাড়া সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

রিমালের প্রভাবে সেন্টমার্টিন বঙ্গোপসাগরে পানি বেড়েছে। শনিবার রাতে কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকেছে। দ্বীপের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, “শনিবার রাতে জোয়ারের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এখনও দমকা হাওয়া সাগরের পানির উচ্চতা বেশি মনে হচ্ছে। দ্বীপের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে যেতে মাইকিং করা হয়।”

দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার কোথাও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

About

Popular Links