কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০১ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরেছে, যা ২৩ বছরের মধ্যে দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এই অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে মারা গেছেন ৬ জন। ডুবে গেছে পর্যটন নগরীর হোটেল-মোটেল, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় ১০০ গ্রাম।
শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আবহাওয়ার এক সতর্কবার্তায় বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছিল আবহাওয়া অফিস।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৫০১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারে বলে বিডিনিউজকে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম । এর আগে ২০০১ সালের ১৪ জুন সর্বোচ্চ ৫৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। সেই হিসেবে ২৩ বছরের মধ্যে কক্সবাজারে শুক্রবার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর গত বছরের ৬ অক্টোবর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে।
এদিকে অতি ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার শহরের ৯০ শতাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। প্রধান সড়কসহ শহরের ৫০টি উপসড়ক বৃষ্টির পানিতে তলিয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করে নষ্ট হয়েছে মালামাল, বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে এবং উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরবর্তী সময়ে নিম্নচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ভারতের উত্তর প্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরবর্তী সময়ে লঘুচাপে পরিণত হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।



