মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টি হচ্ছে ঢাকায়। রাতেও তা অব্যাহত ছিল। ফলে বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে গোটা শহর। রাতের বৃষ্টির পানি বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নামেনি। দুপুরে নগরের অনেক সড়ক পানিতে ডুবে ছিল।
ফলে বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকালে কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে।
ঢাকার শান্তিনগর, বেইলি রোডে, ধানমণ্ডির অনেক গলি, পুরান ঢাকার অধিকাংশ গলিতে পানি আটকে আছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ভোগান্তির বিষয়ে জিতু সরকার নামে আইডিয়াল স্কুলের এক শিক্ষার্থী বলেন, “ভোগান্তি তো হয়েছেই। আমার মতো অনেককেই দেখলাম বৃষ্টির কারণে ছাতা মাথায় দিয়ে বের হয়েছেন। আবার অনেকেই রেইনকোট পরেই স্কুলের দিকে রওনা হয়েছেন।”
বনশ্রীর বাসিন্দা মলি সরকার নামের একজন বলেন, “আমার অফিস পুরানা পল্টনে। ৯টার মধ্যে অফিসে থাকাই লাগবে। বৃষ্টির কারণে সড়কে রিকশা ও বাসের সংখ্যা কম। তাই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সিএনজি নিয়ে অফিসে এলাম।”
ঢাকায় বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে, ১২০ মিলিমিটার। কক্সবাজারে ১১৪ ও নোয়াখালীর মাইজদীতে ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং আশেপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা আছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।



