রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় “ভেজাল মদ্যপানে” এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন অসুস্থ হয়ে ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা সম্পর্কে বাবা-ছেলে।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন।
নিহত কলেজছাত্র বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর মাঝিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি সোনাপুর মীর মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সোনাপুর চন্দনা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির কয়েকজন ভেজাল মদ্যপান করেন। এতে অসুস্থ হয়ে রবিবার রাতে বাড়িতে মারা যান একজন। অন্য দুইজনকে অসুস্থ অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা এখন সুস্থ আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ কুমার বলেন, “দুর্গাপূজায় মদের অতিরিক্ত চাহিদা থাকে। অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা ভেজাল মদ বিক্রি করেন। ওই ভেজাল মদ্যপান করে অনেকেই অসুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন।”
সোনাপুর বাজারের পল্লী চিকিৎসক নীরোদ বরণ বিশ্বাস বলেন, “একটি ছেলে অসুস্থ বলে আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা আমাকে প্রথমে বলেছিল কয়েকদিন উপবাস থাকায় গ্যাসের সমস্যা হয়েছে। আমি স্যালাইন ও ওষুধ দিয়ে চলে আসি। রাত ১টার দিকে পরিবারের লোকজন তাকে আবার আমার বাড়ির সামনে নিয়ে আসেন। তখন তারা স্বীকার করেন মদ্যপান করেছে। আমি চেকআপ করে দেখি মারা গেছে। তাদেরকে বিষয়টি বললে লাশ বাড়িতে নিয়ে যান।”
নিহতের বাবা মদ্যপানের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমার ছেলে কখনও এসব পান করতো না। পূজায় উপবাস থাকার কারণে পেটে অতিরিক্ত গ্যাস হয়ে মৃত্যু হয়েছে।”
বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “সোনাপুরে কয়েকজন ব্যক্তি পূজা উপলক্ষে মদ্যপান করেছেন। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও দুইজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”



