Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নতুন দায়িত্ব নিয়ে পিটার হাস বাংলাদেশে

এক্সিলারেট এনার্জির কৌশলগত উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছেন হাস

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:৫০ পিএম

নতুন পরিচয়ে বাংলাদেশে এসেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। সম্প্রতি মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির কৌশলগত উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছেন হাস।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকারসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছে এক্সিলারেট এনার্জির একটি প্রতিনিধি দল। দলটির নেতৃত্ব দেন পিটার ডি হাস।

এর আগে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) এক্সিলারেট এনার্জির প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন তিনি। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন এক্সিলারেট এনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান স্টিভেন কোবোস।

পেট্রোবাংলার সঙ্গে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশনে টার্মিনালের সংখ্যা আরও বাড়াতে চায় এক্সিলারেট। আর পেট্রোবাংলা চায় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মহেশখালীতে এলএনজির ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ করতে। তাই অন্যান্য কোম্পানির মতো এক্সিলারেট এনার্জিকেও সেখানে অংশ নিতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সরবরাহের জন্য পেট্রোবাংলার মাস্টার সেলস পারচেজ এগ্রিমেন্টে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্যও আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া অফশোর বিডিং রাউন্ডে কীভাবে এক্সিলারেট সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয় প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসে ৩৩ বছরের কর্মজীবনের ইতি টানেন পিটার হাস। ৩ দিনের মাথায় ১ অক্টোবর তিনি জ্বালানি কোম্পানির উপদেষ্টা হিসেবে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করেন। কূটনীতির ক্যারিয়ারে সর্বশেষ ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি। গত ২২ জুলাই সোমবার মধ্যরাতে নির্ধারিত মিশন শেষে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যান বহুল আলোচিত এই মার্কিন কূটনীতিক। পূর্বসূরিদের মতো পিটার হাসও ছিলেন বাংলাদেশিদের কাছে বেশ পরিচিতি।

চায়ের দোকান কিংবা ঢাকায় রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয়, কূটনৈতিক আড্ডা কিংবা রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি সর্বত্রই আলোচনায় ছিলেন তিনি। মার্কিন কূটনীতিক হিসেবে বাংলাদেশের বিষয়ে মার্কিন নীতি “অবাধ, সুষ্ঠু ও সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ নির্বাচন” ইস্যুতে রাজনীতিক ও আমলাদের অফিস-বাসায় এবং গণমানুষের কাছে যেতেন পিটার হাস। এসবের জন্য হয়েছিলেন তখনকার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরাগভাজন।

ঢাকা ছাড়ার ২ দিন আগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের আমন্ত্রণে তখনকার বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত জরুরি কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে অংশ নেন হাস। যে ব্রিফিংয়ে সহিংসতার ১৫ মিনিটের একটি ভিডিও দেখিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করে সহিংসতা ও এতগুলো শিক্ষার্থীর মৃত্যু ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ধ্বংসের জন্য বিরোধীদের বিশেষত বিএনপি-জামায়াতের ওপর দায় চাপানো হয়। অবশ্য ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের পর্যবেক্ষণ ছিল ভিন্ন।

ওই ব্রিফিংয়ে পিটার হাস বলেন, যে ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে তা একপক্ষীয়। আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অ্যাকশন, বিশেষত যেভাবে নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি-টিয়ারশেল ছোড়া হয়েছে তার তো কোনো ফুটেজ নেই।

২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হয়ে বাংলাদেশে আসেন পেশাদার কূটনীতিক পিটার হাস। প্রায় আড়াই বছরের ঢাকা মিশনে গণতন্ত্র, নির্বাচন, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা প্রভৃতি ইস্যুতে কথা বলা এবং বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিকে যুক্ত করার লক্ষ্যে ব্যস্ত ছিলেন হাস। দায়িত্ব পালনকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তার দূতিয়ালি কতটা সফল ছিল সেটি নিয়েও কূটনৈতিক অঙ্গনে চলেছে নানামুখী বিশ্লেষণ।

 

   

About

Popular Links

x