টানা ৪৫ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে মঙ্গলবার থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে খাগড়াছড়ি ও সাজেকের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। এতে সাজেক যেতে আরও কোনো বাধা রইলো না। পর্যটকদের বরণ করে নিতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সেরে নিয়ে রেখেছেন সাজেক কটেজ মালিকরা।
এর আগে গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে সহিংসতার ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েক দফায় সাজেক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। এর জেরে ৮ অক্টোবর খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণে বিরত থাকার অনুরোধ জানায় প্রশাসন।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাজেকে ১১৬টি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ এবং ১৪টির বেশি রেস্টুরেন্ট রয়েছে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ জানান, দেড় মাসে তাদের প্রায় ৮-৯ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। পর্যটকরা এলে লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন তারা।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “গত ১ নভেম্বর থেকে রাঙামাটিতে পর্যটক ভ্রমণে যে নিরুৎসাহিত ছিল তা তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই।”
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে মামুন নামে এক যুবককে হত্যার পর খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা উপজেলা এবং রাঙ্গামাটি শহরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে এই দুই জেলায় চারজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত একটানা ২৪ দিন পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছিল স্থানীয় প্রশাসন।
তবে ৩০ অক্টোবর প্রশাসন ১ নভেম্বর থেকে রাঙ্গামাটি এবং ৫ নভেম্বর থেকে খাগড়াছড়িতে পর্যটকরা বিনা বাধায় ভ্রমণ করতে পারবেন বলে ঘোষণা করে।



