Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উপদেষ্টা: নদী বাঁচাতে প্রয়োজনে দু–চারটা শিল্পকারখানা বন্ধ করে দেব

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমরা কি নদীর সৃষ্টি করতে পারি? যদি সৃষ্টি করতে না পারি, তাহলে কেন ধ্বংস করি’

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৫৭ পিএম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “নদীগুলোকে ভাগাড়ে পরিণত করার অধিকার কোনো শিল্পমালিকদের দেওয়া হয়নি। নদী বাঁচাতে প্রয়োজনে আমরা দু–চারটা শিল্পকারখানা বন্ধ করে দেব।”

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বন ও পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পরে তিনি নগরীর পিটিআই অডিটোরিয়ামে “নদী রক্ষায় যুব সম্মেলন” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “নদীকে একটি সুন্দর প্রাণ ব্যবস্থা হিসেবে দেখতে হবে। আমরা কি নদীর সৃষ্টি করতে পারি? যদি সৃষ্টি করতে না পারি, তাহলে কেন ধ্বংস করি। নদীগুলোকে শিল্প কারখানার ভাগাড়ে পরিণত করার কোনো অধিকার শিল্প মালিকদের দেওয়া হয়নি। বিশ্বের কোথাও কোনো দেশে কোনো মালিককে এই অধিকার দেওয়া হয়নি। তার ব্যবসায়িক লাভের জন্য বর্জ্য নদীতে ফেলার লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।”

তিনি বলেন, “অনেক কিছুর বিকল্প তৈরি করা যায়, কিন্তু নদীর বিকল্প তৈরি করা সম্ভব নয়। প্রকৃতির সঙ্গে কখনো লড়াই করতে নেই। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে জিততে পেরেছে এরকম কোনো ইতিহাস নেই।”

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ যত যাতায়াত করে তার অর্ধেকের বেশি নদী পথে। এখনও মরে যাওয়া দখল হওয়া নদীগুলো আমাদের যাতায়াতের অন্যতম ভূমিকা পালন করে। আমাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের কারণে জলবায়ুর মতো ভয়ংকর বিপর্যয়ের মুখে তরুণ প্রজন্ম। আগামী প্রজন্ম যাদের জন্য আমরা গাড়ি-বাড়ি করি, টাকা জমাই, তারা ভয়ংকর সমস্যার সম্মুখীন হবে। পরিবেশের যে বিরূপ প্রভাব সেটির কবলে পড়বে।”

৫ আগস্টের পরে গাজীপুরে অবৈধ দখল হওয়া ৯০ একর বনভূমির মধ্যে ১৬ একর ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “জেলা প্রশাসকদের বনের সীমানা নির্ধারণের কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ দখলদারেরা যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বনভূমি ও পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বৃক্ষনিধন ও শিল্পকারখানার দূষণ বন্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “বন দখলকারীদের প্রতিরোধ করতে কীভাবে কাজ করতে হয় তা আমরা জানি। আগামী তিন মাসের মধ্যে দখল হওয়া জমি উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে সব দিক পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নবায়নের সময় জনগণের মতামত নিতে হবে।”

পলিথিনের ব্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাকে অনেকেই বলে প্লাস্টিকের ব্যাগ তো এখনো বন্ধ হয়নি। আমি বলি, আপনি যখন বাজারে যান দোকানদার যখন আপনাকে পলিথিন ব্যাগ দেয়, আপনি ওটা নেন। আপনি ক্রেতা হিসেবে বলেন, এটা নিব না, এটা নিষিদ্ধ ’২২ সাল থেকে। আপনার বাপ–দাদারা চটের ব্যাগ নিয়ে বাজারে যেতেন। আপনি কেন বাসায় থেকে একটি চটের ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছেন না।”

   

About

Popular Links

x