Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খুলনা অঞ্চলের ৭২৮ কিমি বেড়ি বাঁধ, নদীর তীর সংস্কার কাজ ৪৬% সম্পন্ন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা অঞ্চলের চারটি জেলায় ৫ প্রকল্পে ৫১০ কোটি টাকার কাজ চলমান

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:২২ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা অঞ্চলের চারটি জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে ৫১০ কোটি টাকার পাঁচটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৭২৮ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ নদীর তীর সংরক্ষণ, খাল পুনঃখনন, বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, রেগুলেটর মেরামতসহ বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে গড়ে পাঁচটি কাজের ৪৬% সম্পন্ন হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হলে এ অঞ্চল অতিবৃষ্টিতে হওয়া জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে। জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসের পানির চাপে বেড়ি বাঁধ ভাঙ্গা থেকে সুরক্ষা পাবে, ফসলি জমি, ঘর-বাড়ি ও নদী ভাঙ্গনের কবল মুক্ত হবে।

জানা গেছে, খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশি ও দক্ষিণ বেদকাশির পোল্ডার নং ১৪/১ এর এলাকার পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের জুলাই মাসে। ১২০ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের অগ্রগতি ১৭.৫০%। এ প্রকল্পের আওতায় হবে ১৩,৬৮০ কিমি বাঁধ পুনর্বাসন কাজ, স্লোপ প্রতিরক্ষামূলক কাজসহ ৩,০৩০ কিমি বাঁধ পুনর্বাসন. নদী তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজসহ ১০.৯৭ কিমি বাঁধ পুনর্বাসন কাজ, বিদ্যমান নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজ মেরামতসহ ৪.০৯৫ কিমি বাঁধ পুনর্বাসন কাজ, নিষ্কাশন খাল পুনঃখনন ৬.১৫৫ কিমি, রেগুলেটর প্রতিস্থাপন ৪টি, আরসিসি ইনলেট নির্মাণ (বক্স) ১৩টি, কপোতাক্ষ নদ ড্রেজিং ২ কিমি।

সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, আশাশুনি, তালা, দেবহাটা নিয়ে পোল্ডার ১, ২, ৬-৮ এবং ৬-৮ (এক্সটেনশন) এর নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের জুন মাসে। ১০০ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালের জুন মাসে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ৭৮.৫০%। এ প্রকল্পের আওতায় হবে রেগুলেটর পুনর্গঠন ৬টি, নিষ্কাশন রেগুলেটর মেরামত ২১টি, মরিচ্চাপ ও বেতনা নদী পুনঃখনন কাজ ৫৯.০৫ কিমি, বেতনা নদী পুনঃখনন (ড্রেজিং) ২১,৬০০ কিমি, অভ্যন্তরীণ খাল পুনঃখনন ২৮৩.২৯৫ কিমি, পোল্ডার নং ১, ২, ৪.৬-৮৫৬-৮ (এক্সটেনশন) এর বিভিন্ন লোকেশনে বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ কাজ ১০৪.১২ কিমি ঢাল প্রতিরক্ষামূলক কাজ ০.৩ কিমি।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরায় পোল্ডার নং ১৫ পুনর্বাসন প্রকল্প শুরু ২০২১ সালের অক্টোবরে। ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের জুনে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ৩৪%। এ প্রকল্পে হবে বাঁধ পুনর্বাসন কাজ ০.৬ কিমি, বাঁধ পুনর্বাসনসহ বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ কাজ ২১.০৮১ কিমি, বাঁধ পুনর্বাসনসহ নদী তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ ৭.৮১৯ কিমি, রেগুলেটর প্রতিস্থাপন ৫টি,  ইনলেট নির্মাণ ১১টি ও নিষ্কাশন খাল পুনঃখনন (৮টি) ২২.৫ কিমি।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা সদর ও সংলগ্ন এলাকার পানগুছি নদীর ভাঙ্গন সংরক্ষণ এবং বিশখালী নদী পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের জুলাই মাসে। ১০০ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ২৪.৭৭%। এ প্রকল্পের আওতায় পানগুছি নদীর ডান/বাম তীর সংরক্ষণ কাজ ১০.৭৫ কিমি, পানগুছি নদীর ডান তীরে নদী তীর সংরক্ষণ মেরামত কাজ ০.৯৬২ কিমি, বিশখালী নদী ড্রেজিং (মাটির পরিমাণ ২৪.৩১ লক্ষ ঘন মিটার) ২৩.৭৩ কিমি, বিশখালী নদীর ৫টি শাখা খাল পুনঃখনন কাজ (মাটির পরিমাণ ৩.৭০ লক্ষ ঘন মিটার) ১৮.৩ কিমি।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মধুমতি-নবগঙ্গা উপ-প্রকল্প পুনর্বাসন ও নবগঙ্গা নদী পুনঃখনন/ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা প্রকল্প (১ম সংশোধিত) শুরু হয় ২০১৯ সালের জুলাই মাসে। ৬০ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের অগ্রগতি ৮০%। এ প্রকল্পের আওতায় হবে নদী পুনঃখনন (নবগঙ্গা নদী) ১৫.৫ কিমি, নদী ড্রেজিং ২৭.৫ কিমি (নবগঙ্গা নদী ২২ কিমি এবং মধুমতি নদী ৫.৫ কিমি। এর মধ্যে বাপাউবো’র নিজস্ব ড্রেজার দিয়ে মধুমতি নদীতে ৪.৫ কিমি, নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজ ৪.২৪ কিমি, খাল পুনঃখনন (২০টি) ৭২.২০৫ কিমি, বাঁধ মেরামত কাজ ২০ কিমি, নতুন বাঁধ নির্মাণ কাজ ৩,৯০০ কিমি, রেগুলেটর পুনঃনির্মাণ (১ ভেন্ট ১টি এবং ২ ভেন্ট ২টি), বিদ্যমান রেগুলেটর মেরামত ৩টি, কালভার্ট নির্মাণ ৬টি।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের চ্যালেঞ্জ বিষয়ে জানান, পরিচালন বাজেটে অপ্রতুল বরাদ্দ, স্থানীয় পর্যায়ে নির্মাণ সামগ্রী যেমন স্টোন চিপস, মানসম্পন্ন বালি এবং স্টিল শিট পাইল, দক্ষ জনবল ও যন্ত্রপাতি সমূহের অপ্রাপ্যতা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী এবং খালসমূহে পলি পতনের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় ও লঘুচাপের কারণে কাজ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্থ হওয়া, কাজ বাস্তবায়নে স্বল্প পরিসরে সময় পাওয়া (নভেম্বর-মে মাসে পর্যন্ত কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়), স্বল্প সময়ে বেশি বৃষ্টিপাত এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে - যা কৃষি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব তৈরি করছে, লুইস এবং রেগুলেটরসমূহ পরিচালনা করার জন্য পাউবো'র নিজস্ব জনবল না থাকা, সম্প্রতি সময়ে এপ্রিল-জুন মাসে অতিরিক্ত গরমের কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, বাঁধের উপর পাকা রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে পাউবো'র সঙ্গে আলোচনা করে কাজ বাস্তবায়ন করা, নদী বা খালের সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া ইত্যাদি।

সম্প্রতি অ্যাওসেড'র উদ্যোগে কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগিতায় ১৩ জানুয়ারি হোটেল ওয়েস্টার্ন ইন, খুলনায় জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি অর্থায়ন ও বীমা সংক্রান্ত নীতিমালার অ্যাডভোকেসি বিষয়ক বিভাগীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা কর্মশালায় এ অঞ্চলের বেড়ি বাঁধ ও নদী ভাঙন পরিস্থিতিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে প্রেজেন্টেশন দেন। এক্সিকিউটিভ কমিটি ফর ওয়ারসো এক্সিকিউটিভ মেম্বর এম হাফিজুল ইসলাম খান ইন্টারন্যাশনাল ম্যাকানিজম ফর লস অ্যান্ড ড্যামেজ-এর প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

কর্মশালায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা বিপদাপন্ন উপকূলীয় জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় জলবায়ু অর্থায়নের দাবিসমূহ চিহ্নিত ও যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করে অ্যাডভোকেসি কৌশল নির্ধারণ বিষয়ে গ্রুপ ওয়ার্ক করা হয়। গ্রুপ ওয়ার্কের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধি, কৃষিবিদ, অ্যাকাডেমিক ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও কর্মী, সিএসও এবং সমাজকর্মীর দলীয় কাজের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রদান করেন।

অ্যাওসেড'র নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফীন কর্মশালার শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। কর্মশালায় সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন কৃষিবিদ অধ্যক্ষ ড. এস.এম ফেরদৌস। কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুয়েটের ইউআরপি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি রায়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রিফাত জাহান উষা, পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম, কেয়ার বাংলাদেশের হিউম্যানিটিরিয়ান অ্যান্ড ক্লাইমেট একশন প্রোগ্রাম ডেপুটি ডিরেক্টর মৃত্যুঞ্জয় দাস, তালা জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক, তালা উপজেলা ম্যাপ সদস্য সচিব জুলফিকার রায়হান, মৃত্তিকা উন্নয়ন সম্পদের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সামছুর নাহার রত্না, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আবু হেনা মোস্তফা জামান পপলু, কালের কণ্ঠ খুলনার স্টাফ রিপোর্টার কৌশিক দে বাপী, দেশ টিভি সাতক্ষীরা প্রতিনিধি শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, ঢাকা ট্রিবিউনের মো. হেদায়েত হোসেন, কেয়ার বাংলাদেশের টেকনিক্যাল কোর্ডিনেটর হিমাদ্রি শেখর মণ্ডল প্রমুখ।

   

About

Popular Links

x