Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মাগুরায় আসামিদের বাড়ি ভাঙার পর গাছপালাও কেটে নিয়ে গেছেন স্থানীয়রা

বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৫, ১২:০২ পিএম

মাগুরার সেই শিশুটির মৃত্যুর পর ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার আসামিদের বাড়ির ইট, টিন ও গাছপালা কেটে নিয়ে গেছে স্থানীয়রা। বাড়ির মূল কাঠামো ভাঙার পাশাপাশি সেখান থেকে গাছপালাও কেটে নিয়ে গেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) দিনভর জেলা শহরের নিজনান্দুয়ালী চরপাড়ার ওই বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইফতারের পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ সেখানে এসে বাড়িটিতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ভাঙচুর চালাতে থাকে। তারা টিনের চালা খুলে নিয়ে যায়। ঘরের দেয়াল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় তারা “আমাদের এলাকায় ধর্ষকের ঠাঁই নাই”- এমন স্লোগান দেয়।

গাছ কাটতে থাকা এক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে বলেন, “এই বাড়ির জন্য গ্রামের দুর্নাম হয়েছে। এ কারণে এই বাড়ির কোনো নাম-নিশানা আমরা রাখতে চাই না। এই বাড়ির পরিণতি দেখে অন্যরা যাতে শিক্ষা নেয়, সে ব্যবস্থাই আমরা নিচ্ছি।”

স্থানীয় কয়েকজন জানান, বাড়িতে আধা পাকা দুটি ঘর ছিল। সেখানে মা, দুই সন্তান, এক পুত্রবধূ ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন মামলার মূল অভিযুক্ত (শিশুটির বোনের শ্বশুর) হিটু শেখ। ঘটনার পর হিটু শেখ, তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ওই বাড়িতে হিটু শেখের বৃদ্ধা মা একাই বসবাস করছিলেন। তবে গতকাল দুপুরের পর তাকে আর ওই বাড়িতে দেখা যায়নি।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্র কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, আসামিদের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর পুলিশ কয়েক দফা সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বিক্ষুব্ধদের প্রতিরোধের মুখে সেটি সম্ভব হয়নি। তবে গ্রামের নিরীহ সাধারণ মানুষের জানমালের যাতে কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

আট বছরের শিশুটি ৫ মার্চ মাগুরায় বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে গভীর রাতে ধর্ষণের শিকার হয়। শিশুটিকে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে স্থানান্তর করা হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাতে শিশুটিকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে শনিবার বিকেলে শিশুটিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছিল। 

১৩ মার্চ দুপুর ১টায় ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ওই দিনই হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ নিজ গ্রামে নেওয়া হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

   

About

Popular Links

x