Sunday, June 21, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যাত্রীর ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন অটোরিকশার চালক

সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামার সময় স্বর্ণের ব্যাগটি ভুলে রেখে যান যাত্রী

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৫১ পিএম

ব্যবসায়ী যাত্রীর ফেলে যাওয়া ২৫ লাখেরও বেশি টাকা মূল্যের ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৫ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সিএনজিচালিত এক অটোরিকশার চালক।

ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ায়। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাতে সদর থানায় আলোচিত ওই চালক খায়রুল ইসলাম খোকনের উপস্থিতিতে পুলিশ প্রকৃত মালিকের কাছে এসব জিনিস ফিরিয়ে দিয়েছে।

সততার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করা খায়রুল ইসলাম খোকন (২৫) অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি পড়ালেখা করেন বলেও জানা গেছে। তিনি বগুড়া সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজের অনার্স (ব্যবস্থাপনা) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

জেলার শাজাহানপুর থানার পরিদর্শক (এসআই) আবদুল কুদ্দুস জানান, মূল্যবান মালামাল ফিরিয়ে দেওয়ায় খায়রুলকে তাৎক্ষণিকভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে। শিগগিরই পুলিশ সুপার তাকে বিশেষ পুরস্কার দেবেন বলেও জানান এসআই ) আবদুল কুদ্দুস।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনার ফরিদপুর উপজেলার উত্তর গোপালনগর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহিন জুয়েলারী ব্যবসায়ী। তিনি ঈদের দু’দিন আগে গত ২৯ মার্চ বিকেলে কেনাকাটা করার জন্য বগুড়া শহরে আসেন। এ সময় শহরের নিউ মার্কেট থেকে ২৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যে ১৮ ভরি বিভিন্ন ডিজাইনের স্বর্ণালংকার কিনে একটি কালো ব্যাগে তোলেন। এছাড়া ঈদের কিছু কেনাকাটা করেন। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য শহরের সাতমাথায় এসে বনানীগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেন। এ সময় তার হাতে মোট তিনটি ব্যাগ ছিল। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়ার বনানী বাসস্ট্যান্ড পৌঁছেই পাবনাগামী একটি বাস ছেড়ে যেতে দেখেন  শাহিন। এ সময় তিনি দ্রুত সিএনজি থেকে নেমে বাসে চড়ে বসেন। তবে তিনটি ব্যাগের দুটি ব্যাগ নিয়ে সিএনজি থেকে নেমে পড়েন তিনি, ভুলে ফেলে রেখে যান স্বর্ণালংকারের ব্যাগটি।

কিছুক্ষণ পর তিনি টের পান যে মূল্যবান ব্যাগটি সিএনজিতে ফেলে এসেছেন। এরপর বাস থেকে ফের বনানী স্ট্যান্ডে এসে ওই চালককে খুঁজতে থাকেন শাহিন। কোনো হদিস না পেয়ে তিনি শাজাহানপুর থানায় জিডি করেন।

শাজাহানপুর থানার এসআই আবদুল কুদ্দুস জানান, জিডি হওয়ার পর সোর্স এবং বিভিন্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেন তিনি। একপর্যায়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অটো অটোরিকশাটি ও চালককে শনাক্ত করা হয়।

এসআই আবদুল কুদ্দুস আরও জানান, অট রিকশায় ব্যাগ পাওয়ার পর চালক ও কলেজছাত্র খায়রুল ইসলাম খোকন শহরের সাতমাথা, বনানীসহ বিভিন্ন স্থানে ওই ব্যবসায়ীর খোঁজ করেন। ঘটনাটি প্রকাশ করলে যে কেউ এত মূল্যবান জিনিস নিয়ে নিতে পারে। তাই তিনি তার পরিচিত বগুড়া ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আলমগীর হোসেনকে অবহিত করেন। এ সময় ছুটিতে থাকা ওই সার্জেন্ট জানান, তিনি ফিরে এসে  ব্যাগের মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

এরপর শুক্রবার রাতে ওই ব্যবসায়ী এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালককে খায়রুলকে শাজাহানপুর থানায় ডাকে পুলিশ। এ সময় মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয় ব্যাগটি।

ধন্যবাদ প্রদানের পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যবসায়ী ও পুলিশ কর্মকর্তা চালক কলেজছাত্র খোকনকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন।

এছাড়া আগামী ৭ এপ্রিল জেলা পুলিশের একটি অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম সততার জন্য পুরস্কৃত করবেন।

সততার দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী চালক ও কলেজছাত্র খায়রুল ইসলাম খোকন জানান, তিনি অটোরিকশা চালিয়ে নিজের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ মেটান। গত ২৯ মার্চ ইফতারের আগে বনানী এলাকায় ওই যাত্রী নেমে যাওয়ার পর তিনি পেছনের সিটে কালো রঙের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। ব্যাগ খুলে দেখেন ভেতরে অনেক স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন স্থানে ওই যাত্রীর খোঁজ করতে থাকেন। সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি পরিচিত ট্রাফিক সার্জেন্ট আলমগীর হোসেনকে অবহিত করেন। তিনি ছুটি থেকে ফিরে এসে এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি আরও জানান, বাড়িতে ফিরে মাকে ঘটনাটি বলেন। মা তাকে দ্রুত ব্যাগটি মালিককে ফিরে দিতে নির্দেশ দেন।

খায়রুল ইসলাম খোকন বলেন, “ওই ব্যাগে কত টাকা ও গহনা ছিল সেটা বড় কথা নয়; অন্যের আমানত ফিরিয়ে দিতে পেরেছি এটাই বড় গৌরবের।”

   

About

Popular Links

x