Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

গ্রামীণ মেলাতে মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র ও ছোটদের খেলনার কদর থাকে বেশি

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:১৯ পিএম

বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের মৃৎশিল্পীরা। নারী-পুরুষ-শিশু সববয়সী মৃৎশিল্পের কারিগররা এখন ব্যস্ত। বছরের অধিকাংশ সময় তাদের তেমন ব্যস্ততা না থাকলেও, ফাল্গুন থেকে বৈশাখ; এই তিন মাস তাদের সময় কাটে ব্যস্ততায়। তবে উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় মৃৎশিল্পীদের তেমন লাভ হচ্ছে না। মৃৎশিল্পীরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

নববর্ষের উৎসব ঘিরে জেলার বিভিন্ন স্থানে বসে বর্ষবরণ মেলা। সেইসব মেলায় চাহিদা থাকে নানা রকমের খেলনা, মাটির জিনিসপত্রের। তাই এখন দেখা যাচ্ছে শেষ মুহূর্তে দিনরাত সমানতালে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। হরেক রকমের মাটি তৈরি বিভিন্ন রকম জিনিস পোড়ানো শেষ করে এখন চলছে রং করার কাজ। তবে আবার কেউ কেউ এখনও মাটির জিনিস বানাচ্ছেন। এতে মৃৎশিল্পীদের দম ফেলার ফুসরত নেই।

যদিও আধুনিকতার ছোঁয়ায় মৃৎশিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবুও বংশ পরম্পরায় এবং জীবিকা নির্বাহের তাগিদে অনেকেই এখনও মৃৎশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন তারা। বর্তমানে বিলুপ্তির পথে জেলার এই মৃৎশিল্প। এদিকে জেলার মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তবে বিদেশে মাটির তৈরি জিনিসের চাহিদা থাকলেও মৃৎশিল্পীদের কারিগরি দক্ষতা কম থাকায় ঠিক মতো সরবরাহ করতে পারছেন না।

জানা যায়, সারা বছর তেমন আয় না হলেও বৈশাখী মেলায় মাটির তৈজসপত্র বিক্রি করে আয়ের মুখ দেখেন মৃৎশিল্পীরা। মৃৎশিল্পীদের হাতের কারুকাজ করা তৈজসপত্র গ্রামীণ মেলাতে মুগ্ধতা ছড়ায়। যা ছোট বড় সব বয়সীদেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কলস, হাঁড়ি, মটকা, বাসনকোসন, ডালা, পুতুল ও নানা রকম পশু, পাখি, মাছ ইত্যাদি তৈরি করেন মৃৎশিল্পীরা। প্লাস্টিক শিল্পের বিকাশের কারণে মাটির খেলনা আগের মতো বিক্রি হয় না। কিন্তু পহেলা বৈশাখের গ্রামীণ মেলাতে মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র ও ছোটদের খেলনার কদর দেখা যায়।

মৃৎশিল্পীরা জানান, মাটির খেলনা আগের মতো বিক্রি হয় না। কিন্তু পহেলা বৈশাখের গ্রামীণ মেলাতে মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র ও ছোটদের খেলনার কদর বেশি। বেচাকেনা ভালো হয়। চৈত্র মাসের পুরো সময় আমরা ব্যস্ত থাকি। মাটির উপকরণের সব কিছুরই দাম বাড়ায় আমাদের লাভ কম হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ফনিন্দ্র পাল নামের এক মৃৎশিল্পী বলেন, “আগে খুব ভালো চলতো। এলুমিনিয়ামের জিনিসের কারণে এখন আগের মতো চলে না। লোকজন মাটির জিনিস নিতে চায় না। আবার মাটির জিনিসের সব উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আমাদের লাভ খুব কমই হয়। সরকারের পক্ষ থেকে আমারা কোনো সহযোগিতা পাইনি।”

তিনি আরও বলেন, “বাবা-মায়ের কাছ থেকে মাটির কাজ শিখেছি। এখনও এ পেশায় আছি। যদিও অনেকেই এ পেশা বদল করেছেন।“

মায়া রানী নামের এক নারী মৃৎশিল্পী বলেন, “ছোটবেলায় মায়ের কাছে মাটির জিনিস বানানো শিখেছিলাম। তখন থেকেই মাটির জিনিস তৈরির কাজ করছি। বয়সের জন্য আগের মতো কাজ করতে পারি না। এছাড়া আগের মতো ব্যবসাও নেই। তবুও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

এদিন আরেক মৃৎশিল্পী বলেন, “পরিশ্রমের তুলনায় ওই পরিমাণ টাকা পাওয়া যায় না। সরকার সহযোগিতা করলে আমাদের এ ব্যবসা টিকে থাকতো।”

বিসিক টাঙ্গাইল জেলা শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগম বলেন, “মৃৎশিল্প বাংলাদেশের পুরানো ঐতিহ্যবাহী শিল্প। বর্তমানে এটি বিলুপ্তির পথে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এক সময় ১,২৩৫ জন মৃৎশিল্পী ছিলেন। কালের বিবর্তনে বর্তমানে খুব কম সংখ্যক মৃৎশিল্পী রয়েছেন। মৃৎশিল্পীরা যদি আমাদের কাছে সহযোগিতা চান তাহলে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।”

 

   

About

Popular Links

x