চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইনস্টিটিউট মূল ক্যাম্পাসে প্রত্যাবর্তনের দাবিতে চলা দীর্ঘ ৩৪ ঘণ্টার অনশন মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ভাঙে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের দাবি মেনে নেওয়ায় তারা অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর চবির শহরের চারুকলা ইনস্টিটিউট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) থেকেই চারুকলা ইনস্টিটিউট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমি) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) মধ্যরাত পর্যন্ত চলা বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। রাত ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানানো হয়।
চারুকলা ইনস্টিটিউটের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সোহেল বলেন, “স্যারেরা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন বুধবার থেকে অফিসিয়ালি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চারুকলার কার্যক্রম শুরু হবে। আমরা যে দাবি নিয়ে অনশন করেছিলাম, আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে সেটা পেয়েছি।”
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, “জরুরি সিন্ডিকেট সভায় শহরের চারুকলা ইনস্টিটিউট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জানানো হয়। আমরা দীর্ঘ চেষ্টার পর শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে সফল হয়েছি। সব থেকে বড় বিষয়, এটির মাধ্যমে আমাদের ওপর তাদের আস্থা ফিরে এসেছে। কাল থেকে চারুকলা ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হবে।”
এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. চট্টগ্রাম শহরের চারুকলা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করবে।
২. চারুকলা ইনস্টিটিউটের বর্তমান স্থাপনাসমূহ, আর্কাইভ, আর্ট গ্যালারি, চারুকলার প্রদর্শনীসমূহ, ব্যবহারিক ল্যাব ও ছাত্রাবাসের কাজে ব্যবহার করা হবে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ড্রয়িং ও পেইন্টিং, প্রিন্ট মেকিং, সিরামিকস; এই চারটি নতুন বিভাগ নিয়ে চারুকলা অনুষদ চালু হবে।
৪. চট্টগ্রাম শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ত্তাধীন চারুকলার সকল সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৫. চারুকলা ইনস্টিটিউটের সম্পত্তি দখল বা বেদখলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ সম্পৃক্ত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে, সোমবার দুপুরে চারুকলা ইনস্টিটিউট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এরপর ৩টা থেকে তারা আমরণ অনশনের ডাক দেয়। সিন্ডিকেট মিটিংয়ের মাধ্যমে চারুকলাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জরুরি সিন্ডিকেট সভার ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।



এবার আমরণ অনশনে চবি চারুকলার শিক্ষার্থীরা