নওগাঁ শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা আইনুল হক। তার বাড়ি থেকে বড় বাজারে রিকশায় যেতে সময় লাগার কথা ১০ মিনিট। তবে বর্তমানে সময় লাগে ২৫-৩৫ মিনিট। শহরে তীব্র যানজটের কারণে সময়মতো পৌঁছাতে পারেন না। তিনি বলছিলেন, শহরে প্রয়োজনের চেয়ে যানবাহন বেড়েছে কয়েক গুণ। ব্যস্ত সড়কের মোড়ে মোড়ে যানজটে আটকে থাকতে হয়। বের হলেই বিরক্ত লাগে। ছোট শহরেও বড় শহরের মতো যানজট।
অবৈধ অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চাপে নওগাঁর রাস্তাগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। হাজারো মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে শহরের ব্যস্ততম গোস্তহাটির মোড়, দুবলহাটি ও কালীতলা রোড, ব্রিজের মোড়, তাজের মোড়, ঢাকা ও পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এবং মুক্তি, কেডি, কাজী ও দয়ালের মোড়ে যানজট লেগেই থাকে।
পৌরসভার তথ্য থেকে জানা গেছে, ৩৮.৪২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের শহরে ২০১০ সাল থেকে ইজিবাইকের নিবন্ধন দেওয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ। ২০১৫ সাল পর্যন্ত নিবন্ধিত যানবাহন ছিল ৩,৮৮৭টি। এরপর থেকে নিবন্ধন বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শহরে এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যানবাহন চলাচল করছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। বৈধ-অবৈধ ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করায় যানজট বেড়েছে।
ব্রিজের মোড় থেকে পুরোনো বাসস্ট্যান্ড হয়ে গোস্তহাটির মোড়, কাজীর মোড় থেকে কেডির মোড় ও ব্রিজের মোড় পর্যন্ত আটকে থাকে কয়েক হাজার অটোরিকশা, রিকশা ও ভ্যান। দুইপাশে যত্রতত্র যানবাহন রাখায় সড়ক সংকুচিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হন।
ব্রিজের মোড়ের রিকশাচালক সুলতান বলেন, “ভিড়ের জন্য রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয়। প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা রাস্তায় জ্যামে পড়ে থাকতে হয়। ঠিকমতো ভাড়া পাওয়া যায় না।”
স্কুল শিক্ষক আব্দুল বাতেন বলেন, “নওগাঁ শহরে মানুষের চেয়ে ইজিবাইক বেশি। প্রতিদিন গ্রাম থেকে অটোভ্যান শহরে প্রবেশ করে। সিট ক্যাপাসিটি ছয়জন থাকলেও প্রতিটিতে এক বা দু’জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। এ ছাড়া যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট লেগেই থাকে।”
জেলার প্রধান সড়কটি গেছে শহরের ভেতর দিয়ে। সড়কের দুই পাশে রয়েছে বিপণিবিতান, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরুর আগে, দুপুরে ছুটির সময় এবং বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মোড়গুলোয় যানজট লেগে থাকে। জানা গেছে, এ রাস্তায় চলা যানবাহনের অন্তত ৮০% ইজিবাইক।
রাণীনগর থেকে আসা ব্যবসায়ী সুলতান বলেন, “শহরে প্রবেশের সময় কাঁঠালতলী থেকে ব্রিজের মোড় দিয়ে সুপারিপট্টি পৌঁছাতে কয়েক দফা আটকে থাকতে হয়। লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক, রিকশা-ভ্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বাইরের অটোরিকশা যেন শহরে ঢুকতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
ইজিবাইক চালক মতিন বলেন, “শহরের ভেতরে বৈধ স্ট্যান্ড বা ফাঁকা জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় ইজিবাইক রাখতে হয়। পৌরসভা থেকে যত ইজিবাইকের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে, তার কয়েক গুণ বেশি অবৈধভাবে চলছে। বাইরে থেকেও আসছে। অবৈধ ইজিবাইকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে সংখ্যায় কমবে। তখন যানজটও কমে আসবে।”
নওগাঁ সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, “প্রধান সড়ক চার লেন করতে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। চার লেনের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রতগতিতে কাজ শুরু করা হবে। তখন যানজট সমস্যা আর থাকবে না।”
নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার বলেন, “যানজটের সমস্যা সমাধানের জন্য পুলিশ দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। অন্য এলাকার ইজিবাইক শহরে যেন ঢুকতে না পারে সেজন্য মনিটর করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া কেউ যাতে পার্কিং না করে তা নজর রাখা হচ্ছে। তবে নওগাঁর প্রধান সড়ক প্রশস্ত না হওয়া পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হবে না।”



