Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঘর থেকে দুই ছেলেসহ মায়ের লাশ উদ্ধার

আলামত হিসেবে তাদের সর্বশেষ খাওয়া ভাত ও ডিমভাজি জব্দ করেছে পুলিশ

আপডেট : ০২ জুন ২০২৫, ০৮:২২ পিএম

ঢাকার ধামরাইয়ে একটি বাড়ি থেকে দুই সন্তানসহ মায়ের মরদেহ উদ্ধার করছে পুলিশ।

সোমবার (২ জুন) বিকেল তিনটার দিকে ধামরাইয়ের গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতরা হলেন- ধামরাইয়ের গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী নারগিস (৪২), তার বড় ছেলে শামীম (১৭) ও ছোট ছেলে সোলাইমান (৮)।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে এটি বিষক্রিয়াজনিত মৃত্যু বলে মনে হচ্ছে। তবে এটি আত্মহত্যা, নাকি হত্যা তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের অপেক্ষা করছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে তাদের সর্বশেষ খাওয়া ভাত ও ডিমভাজি জব্দ করেছে পুলিশ ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে মা নার্গিসের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন মেয়ে নাসরিন বেগম। যোগাযোগ করতে না পারায় স্বামীর বাড়ি থেকে মায়ের খোঁজে বাবার বাড়ি চলে আসেন তিনি। বাড়িতে এসে ঘরে প্রবেশ করে দেখেন তার ২ ভাইসহ মায়ের মরদেহ বিছানায় পড়ে আছে। এ ঘটনায় তিনি চিৎকার করলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে মেয়েকে ঘর থেকে বের করে থানায় খবর দেন।

‘আমি মায়ের পা ধরে দেখি একদম শক্ত’

নাসরিন বেগম বলেন, “বাড়িতে এসে দেখি সব দরজা জানালা লাগানো। বাইরে থেকে দরজা খুলি। ঘরে ঢুকে দেখি ফ্যান চলছে। মা শুয়ে আছে ভেবে পায়ের কাছে বসি। হাত দিয়ে দেখি পা একদম শক্ত। সাধারণত নরম থাকত। তখন মায়ের শরীরের ওপর থেকে কাঁথা সরিয়ে দেখি, দুই ভাইও পাশেই শুয়ে। মা’কে জড়িয়ে ধরি, দেখি মারা গেছে।”

‘ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল’

ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবির বলেন, “বিকেলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। দেখি বিছানায় মা ও দুই ছেলের নিথর দেহ পড়ে আছে। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। নিহত নারীর মেয়ে বাইরে থেকে দরজা খুলে মরদেহ দেখে।”

তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে বলেই ধারণা করছি। তবে এটা আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরিষ্কার হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্তব্ধ গ্রাম, নিস্তব্ধ চারপাশ

একসঙ্গে মা ও দুই সন্তানের এমন মৃত্যুতে পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ ভিড় করেন নারগিসের বাড়িতে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘এটা একেবারেই অস্বাভাবিক ও মর্মান্তিক। ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে, কীভাবে একসঙ্গে তিনজন মারা গেল।”

   

About

Popular Links

x