এবারের ঈদ-উল-আজহার আগে-পরে ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনা ২২.৬৫% বেড়েছে। ২০২৪ সালের ঈদযাত্রার তুলনায় এ হার বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে নিহতের সংখ্যা ১৬.০৭% এবং আহত ৫৫.১১% বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সোমবার (১৬ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। এসময় যাত্রী কল্যাণ সমিতির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের ঈদ-উল-আজহার আগে-পরে ঈদযাত্রা শুরুর দিন ৩১ মে থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ১৪ জুন পর্যন্ত বিগত ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও ১,১৮২ জন আহত হয়েছেন।
এতে বলা হয়, একই সময়ে রেলপথে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে ১১টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৪১৫টি দুর্ঘটনায় ৪২৭ জন নিহত ও ১,১৯৪ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ঈদ-উল-আজহায় ৩০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩৬ জন নিহত ও ৭৬২ জন আহত হয়েছিলেন। বিগত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে সড়ক দুর্ঘটনা ২২.৬৫%, প্রাণহানি ১৬.০৭%, আহত ৫৫.১১% বেড়েছে।
সংগঠনটি জানায়, দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩৭.২০% জাতীয় মহাসড়কে, ২৮.২৩% আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮.৪৯% ফিডার রোডে সংঘটিত হয়।
এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.৪৮% ঢাকা মহানগরীতে, ০.৭৯% চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৭৯% রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের সড়ক-মহাসড়কে বৃষ্টির কারণে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে বেপরোয়া যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। ঈদের পরে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালাতে গিয়ে সংগঠিত হয়েছে। ফলে এসব দুর্ঘটনায় সিংহভাগ খাদে পড়ে ও দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে লেগে যাওয়ার ঘটনা বেশি ঘটেছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও পথে পথে যাত্রী হয়রানি এবারের ঈদেও চরমে ছিল। গণপরিবহনগুলোতে ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের কারণে বাসের ছাদে, ট্রেনের ছাদে, খোলা ট্রাকে, পণ্যবাহী পরিবহনে যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দরিদ্র লোকজনদের ঈদে যাতায়াত করতে হয়েছে।



মে মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২৫৬