পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য মোবাইল ফোনে ব্যয় থেকে এক শতাংশ সারচার্জ আদায় বন্ধের দাবিতে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছে ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি (সিসিএস)।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ কে এম আজাদ হোসেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করেন।
আইনজীবী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।
জানা গেছে, ১০০ টাকা রিচার্জে ১ টাকা সারচার্জ কাটা হয়। ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সরকার সারচার্জ বাবদ প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে।
২০১৬ সালের মার্চ থেকে শুরু হয় পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য সারচার্জ নেওয়া। সেতুটি ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন করা হয়। পদ্মা সেতু চালুর তিন বছর পার হলেও এখনও সারচার্জ দিচ্ছেন মোবাইল ফোনের গ্রাহকরা। দেশে বর্তমানে ১৯ কোটি গ্রাহক রয়েছে চারটি মোবাইল অপারেটরের।
এর আগে, গত ৪ জুন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। ওই নোটিশে সাতদিনের মধ্যে সারচার্জ বন্ধের দাবি জানায় সিসিএস। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদের পক্ষে এ নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ কে এম আজাদ হোসাইন।
নোটিশে বলা হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য মোবাইল ফোন সেবা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মোবাইল সেবার খরচের ওপর ১% সারচার্জ চালু রয়েছে। ২০১৬ সালে ওই সারচার্জ আরোপ করা হয়। এই সারচার্জের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছ থেকে ২,০০০ কোটি টাকার বেশি আদায় করা হয়েছে। নির্মাণ শেষে ২০২২ সালে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হলেও মোবাইল ফোনে সারচার্জ কর্তন বন্ধ করা হয়নি।
নোটিশে আরও বলা হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় এবং মেয়াদ নির্দিষ্ট না করে বেআইনিভাবে সারচার্জ আদায়ের মাধ্যমে ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এবং টেলিটক কর্তৃপক্ষকে এ নোটিশ পাঠানো হয়।



পদ্মা সেতু নির্মাণে মোবাইল ফোন সেবার ব্যয়ে সারচার্জ বন্ধে নোটিশ