রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলায় ৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর পোলট্রি ব্যবসায়ী মো. মামুনের (২৫) দ্বিখণ্ডিত বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে মাঝের পাড়া এলাকা থেকে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার হয়।
হত্যার অভিযোগে গত সোমবার (১৪ জুলাই) মামুনের স্ত্রী সাথী আক্তার (১৯) ও সাবেক কর্মচারী কামরুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লক্ষ্মীপুর জেলার ভবানীগঞ্জ থেকে কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৭ জুলাই বিকেলে নিখোঁজ হন সুগারমিল আদর্শগ্রাম এলাকার ব্যবসায়ী মামুন। রাতে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার কথা বলেছিলেন তিনি। এরপর ৮ জুলাই স্ত্রীকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মামুনের স্ত্রী।
তদন্তে উঠে আসে, মামুনের সাবেক কর্মচারী কামরুল তাকে অপহরণ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, রাঙ্গামটির রানীরহাটে ভাড়া বাসায় সাথীর সহযোগিতায় চায়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে অজ্ঞান করে মামুনকে হত্যা করেন। পরে লাশ দ্বিখণ্ডিত করে বস্তাবন্দি অবস্থায় কাউখালীর মাঝের পাড়ায় মাটি চাপা দেয়।
কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, “কামরুল আগে মামুনের কর্মচারী ছিলেন। পরে তারা শেয়ার ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।”
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘাতক কামরুলকে রিমান্ডে এনে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে। জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।”
মামুনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার এমন নির্মম মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।



