Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যেভাবে আপনি নিজের প্রয়োজনে পুরো একটি ট্রেন ভাড়া করতে পারেন

শর্ত মেনে এক সপ্তাহ আগে আবেদন করলেই মিলতে পারে পুরো একটি ট্রেন

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫, ০১:২৩ পিএম

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে রেলওয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং উপযুক্ত ভাড়া পরিশোধ করে একটি সম্পূর্ণ ট্রেন ভাড়া নিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে ‘‘স্পেশাল’’ ট্রেনটি ভাড়া করার জন্য কিছু শর্ত প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী রেলের একটি ‘‘ফুল রেক’’ বা পুরো ট্রেন ভাড়া নেওয়ার সুযোগ প্রত্যেক নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে বা কোনো উপলক্ষ্যে যেমন- সরকারি কোনো কাজে, ঈদ, পূজা অথবা রাজশাহী থেকে আম আনার জন্য যে স্পেশাল ট্রেন চালু থাকে সেগুলোর কথা বলছি না, বলছি সেই ট্রেন সম্পর্কে যা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভাড়া করতে পারবে। এ বিষয়টি অনেকেরই এখনো অজানা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, যেকোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান চাইলেই নির্ধারিত নিয়ম মেনে স্পেশাল ট্রেন ভাড়া নিতে পারে। এটি কোনো দল বা গোষ্ঠী বিশেষের জন্য নির্ধারিত নয়। বরং জনগণের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনায় এই সেবা সবার জন্য প্রযোজ্য ।

তবে এই স্পেশাল ট্রেন ভাড়া করার জন্য যাত্রীদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে আগ্রহী ব্যক্তি বা সংগঠনকে কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর আবেদনপত্র জমা দিতে হয়। এতে যাত্রার উদ্দেশ্য, এর সম্ভাব্য তারিখ, গন্তব্য, ট্রেনের ধরণ, যাত্রী সংখ্যা ইত্যাদি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হয়। আবেদন পাওয়ার পর রেলপথে ট্রেনের প্রাপ্যতা ও সময়সূচি মূল্যায়ন করে মহাপরিচালক যদি মনে করেন ওই ব্যক্তি বা দল বা গোষ্ঠীর আসলেই ট্রেনটি ভাড়া করা প্রয়োজন এবং ব্যবহারযোগ্য ট্রেন থাকে, তাহলে তিনি যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে অনুমতি দিয়ে থাকেন। কয়েকটি সেক্টর মিলে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

এই স্পেশাল ট্রেন ভাড়া করতে হলে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সাধারণ সিটের জন্য ১০% ও এসি সিটের জন্য ৩৩% ভাড়া বেশি গুণতে হবে। এছাড়াও ট্রেন পরিচালনা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচও যোগ হয়। একটা স্পেশাল ট্রেনে সাধারণত ১৬ থেকে ১৮টি কোচ থাকে।

এছাড়াও কোনো ব্যক্তি বা দল যদি স্পেশাল ট্রেনের জন্য আবেদন করেন এবং সেসময় যদি ওই রুটে ব্যবহারযোগ্য ট্রেন না থাকে বা ভাড়া হয়ে যায়, তাহলে সে ক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ওই নির্দিষ্ট তারিখ অনুযায়ী অন্য কোনো অঞ্চলের ট্রেন যদি সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে তাহলে ওই ট্রেনটি আবেদনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ করে দিতে পারেন। এর জন্য কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগেই আবেদন করতে হবে।

ব্যক্তিগতভাবে অথবা দল এবং প্রতিষ্ঠানকে স্পেশাল ট্রেন আগেও ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম। দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া কম বেশি হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও যদি কোনো ব্যক্তি শুধুমাত্র একটি কোচ ভাড়া নিতে চান, সেক্ষেত্রে তাকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে সাধারণ সিটের জন্য ১০% ও এসির জন্য ৩৩% বেশি ভাড়া দিতে হবে। কোচ ভাড়া করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে অবশ্যই ১০ দিন আগে আবেদন করতে হবে। কোচ ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি নির্দিষ্ট ওই ট্রেনটি যাত্রীপূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে সে ক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আলাদা একটা কোচ যোগ করে যাত্রা নিশ্চিত করেন।

গত ১৯ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নেতা-কর্মীদের জন্য চারটি বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছিল। এ ট্রেনগুলো ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এসেছে। এ ট্রেন যাত্রায় জামায়াতকে গুনতে হয়েছে ৩২ লাখ টাকা।

এছাড়াও আগামীকাল ৩ আগস্ট রাজধানী ঢাকার শাহবাগে সমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আরেকটি বিশেষ ট্রেন ভাড়া করে আসবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালক ট্রাফিক (পরিবহন) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘‘যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে নির্দিষ্ট প্রয়োজন বা কারণ দেখিয়ে স্পেশাল ট্রেন ভাড়া নিতে পারবে। এটা সব নাগরিকের জন্য সংরক্ষিত। এক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে নিয়ম মেনে মহাপরিচালক বরাবর এক সপ্তাহ আগে আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভাড়া কর্তন করা হবে সাধারণ চেয়ারের ক্ষেত্রে ১০% এবং এসির জন্য প্রায় ৩৩%।”

স্বাভাবিকের চেয়ে ভাড়া বেশি রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এটা বিজনেস পলিসি। এছাড়াও স্পেশাল ট্রেন চালু করার ক্ষেত্রে আমাদের কয়েকটা সেক্টরের সঙ্গে কাজ করতে হয়। প্রত্যেক সেক্টরের আলাদা খরচ রয়েছে। খাবারের একটা বিষয় থাকে, এ ট্রেনের দায়িত্বে যারা থাকেন তাদের খরচ থাকে, এছাড়াও আরও অনেক ইন্টারনাল খরচের বিষয় রয়েছে।”

   

About

Popular Links

x