Thursday, July 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়াতে ৩ মাসের সময় দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

একইসঙ্গে পিপলস লিজিংসহ ৫টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে 

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৫-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ তিন মাসের সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে পাঁচটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা এনবিএফআই অবসায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অকার্যকর অবস্থা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় কার্যকর (ভায়েবল) অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পরিচালনা পর্ষদের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এই সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত এই তিন মাসের মধ্যে শর্তগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক পূরণে ব্যর্থ হলে ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৫-এর বিধান অনুযায়ী ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় রেজুলেশন কার্যক্রম শুরু করবে।

বিশেষ সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো: প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ ও স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের মাধ্যমে নতুন মূলধন সংযোজন এবং প্রয়োজনীয় তারল্য নিশ্চিত করতে হবে।

একইসঙ্গে নিজস্ব সম্পদ ও সম্পত্তি বিক্রি, বকেয়া ঋণ আদায় এবং খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে শ্রেণিকৃত ঋণের হার কমিয়ে এনে সাধারণ ও ব্যক্তিগত আমানতকারীদের আমানত পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে নানা অনিয়মের কারণে সংকটে থাকা পাঁচটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা এনবিএফআই অবসায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

অবসায়ন হতে যাওয়া পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো - পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, আভিভা ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অবসায়ন বা বন্ধের তালিকায় থাকা পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২৭,০০০ আমানতকারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রশাসক নিয়োগের পর শুরুতে ব্যক্তি আমানতকারীরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৯৯%, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০%, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩%, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫% এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪%। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় শতভাগ ঋণই খেলাপি।

   

About

Popular Links

x