কয়েক হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের কারণে সংকটে পড়া দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
শেয়ারবাজারে বড় দরপতনের দিনে সোমবার (১৬ মে) সকালে লেনদেন শুরুর অল্প কিছু সময়ের ব্যবধানে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও এফএএস ফাইন্যান্স কোম্পানি দুটির শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ দামে উঠে যায়। তাতে একপর্যায়ে এ দুটি কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে বলে এক প্রতিবেদনে জানায় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সোমবার ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের শেয়ারের দাম ৫০ পয়সা বা ১০% বেড়ে দাঁড়ায় ৬ টাকায়। আর এফএএস ফাইন্যান্সের শেয়ারের দামও ৫০ পয়সা বা সর্বোচ্চ ১০% শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ টাকা ৬০ পয়সায়। এদিন ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের প্রায় সাড়ে ৯ লাখ ও এফএএস ফাইন্যান্সের ৪১ লাখ শেয়ারের হাতবদল হয়।
এ দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হলেও সোমবার শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৪ পয়েন্ট বা প্রায় ২% কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৩১ পয়েন্টে।
বাজারের নিয়ম অনুযায়ী, এক দিনে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম ১০% এর বেশি বাড়তে পারে না। সেই হিসেবে সোমবার দুটি কোম্পানিরই সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পিকে হালদারের গ্রেপ্তারের খবরে কোম্পানিটির শেয়ারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে। যাদের হাতে কোম্পানিটির শেয়ার ছিল, তারা পিকে হালদারের গ্রেপ্তারের খবরকে পুঁজি করে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে নিজেদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।তবে, পিকে হালদার গ্রেপ্তার হলেও তার কাছ থেকে দ্রুতই টাকা উদ্ধার হয়ে যাবে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম।সেক্ষেত্রে নতুন করে যারা এ কোম্পানির শেয়ার কিনবেন, তাদের ক্ষতির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বেনামে শেয়ার কিনে দেশের চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখলে নেন পিকে হালদার। পরে কাগুজে কোম্পানি খুলে তার বিপরীতে বিপুল অর্থ বের করে নেন এসব প্রতিষ্ঠান থেকে। তাতে প্রতিষ্ঠানগুলো বলতে গেলে প্রায় অর্থশূন্য হয়ে পড়ে। আমানতকারীরা তাদের অর্থ ফেরত না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন।
- দেশে ফিরতে চান পিকে হালদার
- বাংলাদেশ-ভারতের পাশাপাশি গ্রেনাডার পাসপোর্টও ছিল পিকে হালদারের
- পিকে হালদারকে বাংলাদেশে পাঠাবে ভারত
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পিকে হালদারের বিষয়ে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা সরানো হয়। এছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং থেকে একই কায়দায় আরও প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা ঋণের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে পিকে হালদার ও তার সিন্ডিকেট।
সব মিলিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্স থেকে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ২৫০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেখিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।
এসব কেলেঙ্কারি জানাজানি হওয়ার পর ২০১৯ সালে দেশ থেকে পালিয়ে যান পিকে হালদার। গত শনিবার ভারতে পিকে হালদারের গ্রেপ্তারের পর দেশটিতে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ কেনার খবর প্রকাশিত হয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে।



